আ ‘লীগ ও ভূমিহীন নেতা সোলাইমানকে জবাই করে হত্যার সর্বশেষ


মো. মোস্তাফিজুর রহমান : আশাশুনিতে সোলাইমান গাজী(৪০) নামে এক ভূমিহীন নেতাকে জবাই করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সোলাইমান একই সাথে নলতা ৯নং ওয়ার্ড আ ’লীগেরও সাধারণ সম্পাদক। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাাতে শোভনালী ইউনিয়নের কৈখালীতে। সোমবার সকালে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেছেন।
আশাশুনি থানা পুলিশ সোমবার ভোরে উপজেলার কৈখালি গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের পাশ থেকে তার মস্তক বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত সোলাইমান গাজী বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার স্থায়ী ঠিকানা শোভনালী ইউনিয়নের ঝিয়ামারী গ্রাম। পিতার নাম মৃত: মোকছেদ গাজী।
নিহতের বড় ছেলে শাহিন আলম (২৫) জানান, রবিবার সন্ধ্যা ৫ টা ১৫ মিনিটের দিকে পার্শ্ববর্তী সাহেবালীর দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার পিতাকে ঐ দোকানের দিকে যেতে দেখে। সে সময় তার পিতার সাথে এক জন লোক ছিল যাকে সে ভালভাবে দেখতে প্য়ানি। তবে শাহিন জানান সেই লোকটার গায়ে চেককাটা গেঞ্জি পরা ছিল। ভোরে জানতে পারে তার পিতাকে জবাই করে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে। তার ধারনা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নলতা ইউনিয়নের মৃত: তালেব পেয়াদার পুত্র ওহাব পেয়াদা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুর রশিদ জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাহেবালীর দোকানে ক্যারাম খেলা অবস্থায় সোলাইমানের কাছে একটা ফোন আসে। তারপর সে দোকান থেকে চলে যায়। নিহতের আত্মীয় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানান, ভূমিহীনদের একটি অংশের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তার প্রতিপক্ষ ভূমিহীন নেতা ওহাব পেয়াদার সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এঘটনা ঘটতে পারে। শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক ম. মোনায়েম জানান, রাতে সোলাইমান গাজী তার ভাগিনা আবু সালেক ও চাচাতো ভাই আব্দুর রশীদের সাথে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে ক্যারাম খেলছিল। রাত ৯ টার দিকে তারা বাড়ি ফিরলে তার ফোনে একটি কল আসে। এ সময় সে আবার বাড়ি থেকে বাহিরে চলে আসে। সকালে বেড়িবাঁধের ধারে তার জবাইকৃত লাশ পাওয়া যায়। যে জায়গা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখান থেকে আনুমানিক ১০০ হাত দুরত্বের বাড়ির মালিক ভবেতোষ মন্ডল ও অরুন মন্ডল জানান, আব্দুর রশিদের চিৎকার শুনে বাড়ির বাহিরে বের হয়ে এ ঘটনা জানতে পারে। রাতে কোনরকম চিৎকার বা ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পেয়েছিল কিনা এরকম প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, তারা কোনরকম চিৎকার বা ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পাননি। আশাশুনি থানার এসআই নয়ন চেীধুরী লাশের সুরতহাল রিপোর্টে দেখা গেছে গলায় ও ঘাড়ে ধারাল চাপাতি বা অনুরুপ অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলায় ও ঘাড়ে ৩/৪টি কোপের দাগ রয়েছে। আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম শাহীন জানান লাশটির মাথা বিচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার ব্যবহৃত মোবাইলটি পাওয়া যায়নি। লাশের পাশে সিগারেট প্যাকেট ও একটি গ্যাস লাইট ছিল। হত্যার কারণ এই মুহুর্তে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ভুমিহীনদের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে এ হত্যা হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে কাজ করছে পুলিশ। তিনি জানান সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান লাশটি পড়েছিল আশাশুনি ও কালিগঞ্জ থানার সীমানায়। দুই থানার পুলশি সেখানে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখাকালীন হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি। থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

Related posts