জাতীয়

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলুন-প্রধানমন্ত্রী / বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দাবি এমপি রুহুল হকের

By Daily Satkhira

March 16, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক : সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’ কেউ যেন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে না জড়ায়, এ জন্য জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার বিজ্ঞানী, গবেষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি (এনসিটি) ফেলোশিপ এবং বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিশ্বব্যাপী নতুন উপসর্গ শুরু হয়েছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদকাসক্তি। এর বিরুদ্ধে সবাইকে জনমত সৃষ্টি করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী, শুধু দেশে নয়, যারা বিদেশে লেখাপড়া করছে, তারাও মেধার দৃষ্টান্ত রাখছে। কাজেই এরা যেন কেউ বিপথে না যায়। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের সঙ্গে যেন না জড়ায়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার জন্য আমি শিক্ষক, অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ যদি আমরা গড়তে চাই, তাহলে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, গবেষণা বাড়ানো এবং বিজ্ঞানের চর্চা বৃদ্ধি করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা বায়ো-টেকনোলজিক্যাল সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপলায়েড সায়েন্স এবং খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে গুরুত্ব প্রদান করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশ, মৎস্য উৎপাদনে (মিঠা পানির মাছ) বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছি। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাংসসহ অন্যান্য উৎপাদনেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এসব উন্নয়ন এমনিতেই হয়নি। আমি বলব, সবই বিজ্ঞানের অবদান, গবেষণার অবদান।’ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাতক্ষীরা-০৩ আসনের সংসদস সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা: আ ফ ম রুহুল হক। প্রফেসর রুহুল হক বলেন, “ভবিষ্যতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরিচালনায় যারা কাজ করবেন তাঁরা সকলে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। বিদেশে এসব প্রকৌশলীদের চাহিদা ও সুযোগ-সুবিধা দুটোই খুব বেশি। তাই আমাদের প্রশিক্ষিত জনবল এখানে ধরে রাখার জন্য তাদের বেতন কাঠামো, সুযোগ-সুবিধা অন্যদের থেকে আলাদা হতে হবে। স্থায়ী কমিটি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে।” তিন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে কর্মরত বিজ্ঞানীদের চাকরির বয়স বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। তিনি প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে বলেন, “এখনো প্রকৌশল শিক্ষায় সমাজের সবচেয়ে মেধাবীরা ভর্তি হয় এবং এই মেধাবীদের মধ্যে সেরা যারা তারাই শিক্ষক হন। এখানে অনেক শিক্ষক আছেন। আপনারা গতানুগতিক শিক্ষার থেকে যুগোপযোগী শিক্ষার কথা চিন্তা করুন। বিশ্বব্যাপী প্রকৌশলসহ সকল শিক্ষার ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। পড়ার বিষয়গুলো Interdisciplinary হতে হবে। বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই Nanotechnology, Optical Technology, Green Building Technology, Bio-engineering, Bioinformatics, Medical Informatics ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হয় না। এ বিষয়গুলোর মাস্টার্স কোর্স চালুর উদ্যোগ এখনি নেওয়া প্রয়োজন।” তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালু করা প্রয়োজন। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট হলেও বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে এর একটা বিরাট প্রভাব পড়ছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন শূন্য রয়ে যাচ্ছে। গত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭৫ আসনের মধ্যে ২২৮টি অর্থাৎ ২৫% আসন শূন্য রেখেই কাস শুরু করতে হয়েছে। এটা ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে ঘটেছে। অথচ সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর কোথাও বেড়াতে না গিয়ে কোচিংয়ে ভর্তি হচ্ছে। অভিভাবকসহ বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাস্তার বিপদ মাথায় নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটছে। আর যেসব মেধাবী শিক্ষার্থী অসচ্ছ্বল পরিবারের সন্তান, সে বাড়ির কাছের ১টা বা বড় জোর ২টা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেবার সুযোগ পাচ্ছে। আর ভর্তির সুযোগ না পেলে শিক্ষা জীবনের ইতি টানছে অথবা কাছাকাছি কোন কলেজে ভর্তি হচ্ছে। এতে বিজ্ঞান শিক্ষায় মেধার অপচয় হচ্ছে। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরপরই অর্থাৎ ফলাফল প্রকাশের পূর্বেই নেয়া যেতে পারে। সেটা হতে পারে প্রতি বছর জুলাই মাসের প্রথম শুক্রবার। ভর্তি পরীক্ষা উৎসবের মাধ্যমে এটা করা যেতে পারে। বিশেষ ২/১টা বিষয় যেমনÑ স্থাপত্য বিদ্যা, চারুকলা ইত্যাদি ছাড়া মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সকল বিষয়ের জন্য একটি মাত্র ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে কিনা তা আমাদের ভাবা উচিত।” অনুষ্ঠানে অরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব সিরাজুল হক খান। এ বছর ১ হাজার ৭০২ জন শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ ও গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, সরকারের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তি, দেশবরেণ্য গবেষক ও বিজ্ঞানী এবং ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।