জাতীয়

হাসপাতাল চত্বরে থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি, কনসার্ট!

By Daily Satkhira

January 01, 2020

অনলাইন ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে চিকিৎসকদের আয়োজনে করা হয়েছে জমজমাট থার্টি ফার্স্ট নাইট। এ অনুষ্ঠানে জেলা সিভিল সার্জন এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সামনেই মাইকে গান বাজানো হয়, একটু পরপরই ফোটানো হয় আতশবাজি। রোগীদের জন্য বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনুমতি নেওয়া হয়নি পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে; অবগত না থাকার দাবি করেছেন সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম। তিনি বলছেন, সেখানে গিয়ে এসব আয়োজনের বিষয়ে জেনেছেন। তার দাবি, দুটো গানের পরেই রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। আর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলছেন, অনুষ্ঠান হাসপাতালের আউটডোরের সামনে হয়েছে। ইনডোরে কোনও সমস্যা হয়নি।

জানা গেছে, ব্রাক্ষণবাড়িয়া হাসপাতালের চিকিৎসকরা পারিবারিকভাবে থার্টি ফার্স্ট উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এ আয়োজনে ছিল শীতকালীন পিঠা, আতশবাজি, কনসার্ট আর ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মো. আবু সাঈদ।

এর ফলে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বিড়ম্বনায় পড়েন। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠান করার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন থেকে অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কিছু্ই জানায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের সামনে মঞ্চ সাজিয়ে থার্টি ফার্স্ট উদযাপন করেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও তাদের পরিবারা সদস্যরা।

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ও চিকিৎসকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য গান-বাজনার আসরসহ সার্বিক অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিল হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে তারা গানের পাশাপাশি আতশবাজি ফোটানোর মাধ্যমে নতুন বছর উদযাপন করেন।

ফেসবুকে প্রকাশিত এ অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যাডমিন্টন কোর্ট প্রস্তুত, একটু পর পর আতশবাজি ফোটানো হচ্ছে এবং ঠিক পাশের বিল্ডিংটিতেই বড় করে লেখা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয়রা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী বলেন, এটা কাণ্ডজ্ঞানহীন কারবার। এমন ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী স্তম্ভিত। তিনি ঘটনার জন্যে পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুষ্ঠানটির স্পন্সর হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা সদর হাসপাতালের আয়োজনে অনুষ্ঠান ছিল। আমাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে শুধু স্পন্সর করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘যেমনটা শুনেছেন তেমন না। ব্যাডমিন্টন আর পিঠা উৎসব। সবাই অনুষ্ঠান করে চিকিৎসকরাও তো মানুষ। তাদেরও রিফ্রেশমেন্ট বা চিত্ত বিনোদনের প্রয়োজন আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নতুন একদল চিকিৎসক যোগদান করেছেন। চিকিৎসকদের পরিবারের সদস্যরা মিলে আয়োজন। তারা হাসপাতালের বহির্বিভাগের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে। আমাদের দাওয়াত দিয়েছে। আমরা কেবল অংশগ্রহণ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপত্তি আসার পর তাৎক্ষণিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। ফেসবুকে আপ করা ভিডিওতে আতশবাজি, গানের স্টেজ, গান সবই দেখা গেছে বলা হলে তিনি জানান, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তো। খুব জোর গান ১০/১৫ মিনিট হয়েছে। হাসপাতালে কতজন বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ২৫০ জনের ওপরে রোগী আছে। অনুষ্ঠান মাঠের মধ্যে হয়েছে। ইনডোর থেকে সেটা দূরে। রোগীদের কোনও অভিযোগ নেই। হাসপাতাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে কী কী হবে সেটি তত্ত্বাবধায়কের জানার কথা কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ওরা আয়োজন করেছে, আমরা গান বন্ধ করে দিয়েছি। ‘ওরা’ কারা প্রশ্নে তিনি বলেন, জুনিয়ররা আর সঙ্গে স্পন্সর কোম্পানি ছিল। আতশবাজি ছোটরা করেছে বলে তিনি এড়িয়ে যেতে চাইলে ভিডিওর কথা উল্লেখ করে এই তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হয়, ভিডিওতে বয়স্ক ব্যক্তিদের আতশবাজি করতে দেখা গেছে, শিশুদের নয়। এরপরও তিনি বলেন, এটা কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে নয়, মাঠে। জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম বলেন, আমি পুরোটা হতে দেইনি, তাদের পরিকল্পনা ছিল ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালানোর। আমি সাড়ে ১০টায় বন্ধ করে দিয়েছি। তারা শিল্পী নিয়ে এসেছে। গান হবে শুনে আমি নিষেধ করেছিলাম। পরে তারা অনুরোধ করলে আমি বলেছি, খুব জোর দুটো গান হবে, হালকা সুরের। দুটোর পরে তিনটে গানও হয়ে যাচ্ছে দেখে বকা দিয়ে বন্ধ করে দিলাম। তিনি বলেন, আমি জানতাম পিঠা উৎসব আর ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। তরুণ চিকিৎসকরা গানের আয়োজন করেছে। এমনকি তত্ত্বাবধায়কও নাকি বিষয়টি জানতেন না। আতশ বাজি আর সংগীতানুষ্ঠানের কারণে রোগীদের কোনও সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের দক্ষিণ দিকের যে ফটক এটি দুপুর আড়াইটার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে রোগীর কোনও বেড নেই। তাই তেমন কোনও সমস্যা হয়নি। এধরনের অনুষ্ঠান হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কতটা শোভন প্রশ্নে তিনি বলেন, হওয়া উচিত না। তবে এটা কিন্তু কম্পাউন্ডের বাইরে, আউটডোরের ওখানে। তবে ভবিষ্যতে আর যেন এসব না হয় বলে দিয়েছি। ব্যাডমিন্টন চলতে পারে। আমি হার্ডলাইনে, আর হবে না। হাসপাতালের ভেতর অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে প্রশাসনের কোনও অনুমতি ছিল কিনা জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অনুষ্ঠান করার জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। হাসপাতালে অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে অনুষ্ঠানটি দ্রুত বন্ধ করতে বলা হয়। পরে তারা অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন।