অর্থনীতি

৮ হাজার ঋণখেলাপির তালিকা সংসদে প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী

By Daily Satkhira

January 22, 2020

দেশের খবর: জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপি ৮ হাজার ২৩৮ জন ব্যক্তি বা কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যরত সব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত সিআইবি ডাটাবেসে রক্ষিত ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৬ হাজার ৯৮৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পরিশোধিত ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮৩৬ কোটি ৪ লাখ টাকা।

বুধবার জাতীয় সংসদে আহসানুল ইসলাম টিটুর প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী এ সময় কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত ১০৭ পৃষ্ঠাবিশিষ্ট একটি তালিকা সংসদে উত্থাপন করেন। সেই তালিকায় স্থান পায় কে কত টাকার ঋণখেলাপি।

প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ত্রৈমাসিকের তথ্য অনুযায়ী ২৫টি ব্যাংকের পরিচালকবৃন্দ নিউ (নতুন) ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। তাদের গৃহীত ঋণের বকেয়া স্থিতির পরিমাণ ১ হাজার ৬১৪ কোটি ৭৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা। যা মোট ঋণের ০.১৬৬৬ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যাংকের পরিচালকবৃন্দ নিজ ব্যাংক ব্যতিত অন্য ৫৫টি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। তাদের গৃহীত ঋণের উপস্থিতির পরিমাণ ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১৬ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। যা ব্যাংকগুলোর মোট প্রদেয় ঋণের ১১.২১ শতাংশ।

সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টি ব্যাংকের পরিচালকরা তাদের নিজ ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন। শুধু রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে কোনো পরিচালক ঋণ নেননি।

অর্থমন্ত্রী জানান, নিজ ব্যাংক থেকে সব থেকে বেশি ঋণ নিয়েছেন এবি ব্যাংকের পরিচালকরা। তাদের ঋণের স্থিতি ৯০৭ কোটি ৪৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি থেকে এর পরিচালকরা ৩৬২ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন।

এদিকে এক্সিম ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকদের কাছে নিজ ব্যাংকের কোনো পাওনা নেই বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে অন্য ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের কাছে পাওনার দিক থেকে এই দুই ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও এক্সিম ব্যাংক থেকে ১০ হাজার ৫১৩ কোটি ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন অন্য ব্যাংকের পরিচালকরা।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকেও বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন অন্য ব্যাংকের পরিচালকরা। তাদের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির পাওনা ১০ হাজার ১২৬ কোটি ৭২ লাখ ৫ হাজার টাকা। এছাড়া পূবালী ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ৭৩৫ কোটি ৫২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নিয়েছেন অন্য ব্যাংকের পরিচালকরা।

সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেয়া তালিকা অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপি গ্রাহক অ্যাননটেক্স। তারপরই রয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপের নাম। প্রতিষ্ঠান দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠান দুটিই ঋণের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। অ্যাননটেক্সের মালিক হলেন ইউনুছ বাদল। তিনি বিদেশে পালিয়েছেন। আর ক্রিসেন্টের মালিক দুইজন। তারা হলেন এমএ কাদের ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আবদুল আজিজ। এদের মধ্যে এমএ কাদের গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি।

ঋণখেলাপির শীর্ষ তালিকায় নাম এসেছে বিল্ডট্রেড গ্রুপ ও চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনায়েতুর রহমানের। তার খেলাপি ঋণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন আলোচিত ব্যবসায়ী মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। তার মালিকানাধীন ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, নর্থ বেঙ্গল পোলট্রিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এ দু’জনই এবি ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।

সংসদে অর্থমন্ত্রীর প্রকাশিত ঋণখেলাপির তালিকায় বেশকিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- রহিম আফরোজ, নাভানা লিমিটেড, অটবি, মুন্নু গ্রুপ, ঢাকা ডায়িং, দুসাই হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি, কেয়া, গ্রামীণ শক্তি, সিনহা ইয়ার্ন অ্যান্ড ডায়িং।

এদিকে ঋণখেলাপির তালিকায় নাম উঠেছে গণমাধ্যমের মালিকদের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদের খেলাপি ঋণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা এবং ব্যবসায়ী এমএনএইচ বুলুর খেলাপি ঋণ ২৫০ কোটি টাকা।

বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের বাংলালায়নের খেলাপি ঋণ ৫১৮ কোটি টাকা। ব্যবসায়ী সাইদ হোসেন চৌধুরীর পরিবারের এইচআরসি শিপিংয়ের খেলাপি ঋণ ১৭০ কোটি টাকা।

আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানও ঋণখেলাপির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিংসহ আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অ্যাপোলো ইস্পাত ও এমারেল্ড ওয়েল্ড।

আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছে- এনা প্রোপার্টিজ, অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজি ও কক্স ডেভেলপার্স।

এ ছাড়া ঋণখেলাপির তালিকায় এসেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করোলা কর্পোরেশন এবং পারটেক্স সুগার মিলস।