জাতীয়

টঙ্গীতে প্যাকেজিং কারখানায় আগুন: নিহত সংখ্যা ১৯

By daily satkhira

September 10, 2016

ডেস্ক রিপোর্ট:

টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় তাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড নামে একটি প্যাকেজিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। তাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। কারখানাটির ভেতরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে কাজ করছে দমকল বাহিনী। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার ভোররাতে কারখানাটিতে আগুন লাগে। নিহতদের মধ্যে আটজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- কারখানার শিফট ইনচার্জ শুভাষ, প্রিন্টিং সহকারী রফিকুল ইসলাম, নিরাপত্তা প্রহরী হান্নান, অপারেটর মামুন, আনোয়ার, জয়নাল, ক্লিনার শংকর ও রেদোয়ান। বাকি হতাহতদের নামপরিচয় জানা যায়নি। বয়লার বিস্ফোরণে পাঁচতলা ভবনের একাংশ ধসে গেছে। আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট। কারখানাটি কিসের ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো না হলেও স্থানীয়রা জানান, এটি একটি প্যাকেজিং কারখানা।

কতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো না হলেও টঙ্গী হাসপাতালে খোঁজ জানাযায়, সেখানে ১৫ জনের লাশ আছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। সকালে সাড়ে ১১টার দিকে কারখানাটি থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করতে দেখেছেন তিনি। হাসপাতালটিতে আরও কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে ২২ জনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করার পর সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কারখানাটিকে আর কোনো শ্রমিকের মৃতদেহ আছে কিনা দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা তা বলতে পারছেন না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সার্স কমিটি করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানায়।

জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করছে। আহতদের টঙ্গী ৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন দগ্ধদের বার্ন ইউনিটের ১০১ এবং ১০৩ নম্বর কক্ষে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভবনের ভেতরে আরও অনেক শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তারা বেশ কয়েকজনের লাশ দেখতে পেয়েছেন। বাহির থেকে দু-তিনটি পোড়া লাশ দেখতে পেয়েছেন তারা। ভেতরে আটকেপড়াদের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এছাড়া ভবনের ছাদে উপর একটি ট্যাংকির ওপর দুটি হাত দিয়ে ইশারা করতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, কারখানাটিতে বয়লার বিস্ফোরিত হওয়ার পরই ভবনটির একাংশ ধসে পড়ায় অনেক শ্রমিক ভেঙে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়েন। এতে বের হতে না পেরে দগ্ধ হয়ে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে পুরো কারখানাটি ধসে পড়ে।

কারখানাটির এক শ্রমিক বলেন, এই শিফটে ২০০ থেকে ৩০০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করছিলেন। এছাড়া অনেকে রাতের ডিউটি শেষে বাসায় ফিরছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ হলে ভবনটি কাঁপতে থাকে। ভূমিকম্প হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করলেও পরে তারা ধোঁয়া দেখতে পান। বেশ কয়েকজন দ্রুত বের হতে সক্ষম হলেও বুঝতে না পেরে অনেকে আটকরা পড়েন।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করা হলেও সকালে সোয়া ১১টায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এছাড়া আগুন ধসে পড়া ভবনটির পাশের একটি ভবনে ছড়িয়ে পড়েছে। এখনো দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।