বিনোদন

ফিল্ম রিভিউ: ‘বাহুবলি টু: দ্য কনক্লুশন’

By Daily Satkhira

May 01, 2017

ডেস্ক: অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলো। জানা গেল কেন অমরেন্দ্র বাহুবলিকে খুন করেছিল কাটাপ্পা। “বাহুবলি টু: দ্য কনক্লুশন”-এ দুর্দান্ত ভিএফএক্স সিনেমাটির গল্প আর চরিত্রগুলোকে করে তুলেছে আরও বেশি প্রাণবন্ত। প্রতিটি দৃশ্যে দর্শক যেন হারিয়ে যেতে বাধ্য। “বাহুবলি টু”-র শুরুর দিকে বাহুবলির বীরত্ব আর প্রজাদের প্রতি ভালোবাসা দেখানোর পর বেশ কিছুটা সময় ছিল হাস্য-কৌতুকে ভরপুর। কিন্তু, প্রথম আধঘণ্টা বাদ দিলে বাকি সময় ছিল রাজপরিবারের রাজনীতি, যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র আর দুই ক্ষমতাধর নারীর মধ্যকার বিবাদ নিয়ে টানটান উত্তেজনা।

বাহুবলি রাজা হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে রাজমাতা শিবগামী দেবীর কথায় রাজ্য ভ্রমণে বের হন। আর ঘুরতে ঘুরতে ঘটনাক্রমে দেখা হয় পাশের রাজ্যের রাজকুমারী দেবসেনার সঙ্গে। দেবসেনার বীরত্ব আর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে পড়েন অমরেন্দ্র বাহুবলি। তার প্রেম পাওয়ার জন্য বোকার অভিনয় করে সেই রাজ্যেই দেবসেনার আশ্রয়ে থেকে যান বাহুবলি। আর তাদের মেলানোর জন্য কাটাপ্পার ভূমিকা ছিল বেশ কৌতুকপূর্ণ। বাহুবলি যখন প্রেমে মশগুল তখন রাজমহলে রাজা হতে না পারার কষ্ট নিয়ে বল্লাল দেব বুনতে থাকেন ষড়যন্ত্রের জাল।

বাহুবলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় দেবসেনার সন্দেহ হতে থাকে যে সে ঠিক বোকা একজন লোক নন, সে একজন যোদ্ধা। এর প্রমাণ শেষ পর্যন্ত দেবসেনা পেয়ে যান যখন তার রাজ্য আক্রমণ করে বসে পিন্ডারিরা। বাহুবলির যুদ্ধপটুতা সে যাত্রায় রক্ষা করে কুন্তাল রাজ্যকে। বাহুবলি কুন্তাল রাজ্যের মানুষের কাছে মহান বনে যান। কিন্তু বল্লাল দেবের ষড়যন্ত্রে শিবগামীর আদেশে রাজকুমারী দেবসেনাকে বন্দি করে মহেসমতী নিয়ে যাবার আদেশ পান বাহুবলি। কুন্তাল রাজ্যের রাজা-রানীর কাছ থেকে রাজকুমারীকে বিয়ে করার অনুমতি নিয়ে এবং তার সম্মান ও জীবনরক্ষার পণ করে দেবসেনাকে সঙ্গে নিয়েই বাহুবলি ফিরেন মহেসমতীতে।

বল্লাল দেবের ষড়যন্ত্রে বাহুবলির বদলে বল্লাল দেবকে রাজা এবং বাহুবলিকে প্রধান সেনাপতি ঘোষণা করেন শিবগামী। রাজমাতার এই আদেশ খুশি মনে মেনে নেন বাহুবলি। দেবসেনাকে বিয়ে করে খুশি মনেই জীবন পরিচালনা করতে থাকেন তিনি। কিন্তু প্রজাদের মধ্যে বাহুবলির জনপ্রিয়তা দেখে হিংসায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে বল্লাল দেবের। বাড়তে থাকে তার ও তার পিতার ষড়যন্ত্রের প্রকোপ। এই হিংসা থেকেই প্রথমে বাহুবলিকে রাজমহল থেকে বহিষ্কার এবং পরে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে বল্লাল দেব।

বাহুবলির মতো বীরকে সাধারণ কাউকে দিয়ে হত্যা করা সম্ভব নয় এটা বুঝতে পেরে বল্লাল দেব রাজমাতা শিবগামী দেবীর কাছে মিথ্যা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে বাহুবলি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রাজমাতা কাটাপ্পার হাতে বাহুবলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মতো রাজ আদেশে মহেশমতী রাজ্যের গোলাম কাটাপ্পা হত্যা করে অমরেন্দ্র বাহুবলিকে। কাটাপ্পার কাছে নিজের সন্তান বল্লাল দেবের মিথ্যে ষড়যন্ত্রের বিবরণ জানতে পেরে শিবগামী অমরেন্দ্র বাহুবলির সদ্যজাত সন্তান মহেন্দ্র বাহুবলিকে মহারাজা ঘোষণা দেন। কিন্তু বল্লাল দেব মহেন্দ্র বাহুবলিকেও হত্যার চেষ্টা করেন। নিজের জীবন দিয়ে শিবগামী কিভাবে মহেন্দ্র বাহুবলিকে বাঁচান এবং মহেন্দ্র বাহুবলির বেড়ে ওঠা ছিলো “বাহুবলি: দ্য বিগিনিং”-এ।

কাটাপ্পার কাছে সব ঘটনা জেনে মায়ের অপমান এবং পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে মহেসমতীতে ফিরে আসেন মহেন্দ্র বাহুবলি। তার সঙ্গে যোগ দেন রাজপরিবারের গোলাম কাটাপ্পা। কারণ, রাজমাতা শিবগামীর ঘোষণা অনুযায়ী মহেন্দ্র বাহুবলিই মহেসমতীর বৈধ রাজা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বল্লাল দেবের ক্রোধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কুন্দল রাজ্যের জনগণ, মহেসমতীর সাধারণ মানুষ আর কাটাপ্পার অধীনস্থ অল্পকিছু সংখ্যক সৈনিক। যুদ্ধকৌশলে জিতে যায় মহেন্দ্র বাহুবলি। এতে অবসান হয় বল্লাল দেবের আর মহেসমতী পায় তাদের নতুন মহারাজ মহেন্দ্র বাহুবলি।