শ্যামনগর

শ্যামনগরের ফসলী জমি থেকে বোলিং করে বালু উত্তোলন

By daily satkhira

October 27, 2020

শ্যামনগর প্রতিনিধি:  সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের অজুহাতে সুন্দরবন সংলগ্ন কৈখালী এলাকায় জাদা গ্রামে ফসলী জমি থেকে বোরিং করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারের পক্ষে উপজেলার রমজান নগর ইউনিয়নের পাতড়াখোলা গ্রামের নুরুল ইসলাম ও আনছার আলী লোকজন নিয়ে টানা ১৬ দিন ধরে অবৈধভাবে ঐ বালু উত্তোলন করছে। সমগ্র সড়ক তৈরীর কাজে প্রয়োজনীয় প্রায় দেড় লাখ ঘনফুট বালু ঐ এলাকার ফসলী জমি থেকেই সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এদিকে সুন্দরবন উপকূলে ভাঙন কবলিত জনপদ থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনায় মারাত্বক পরিবেশ বিপর্যয়ের শংকা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা ও সচেতন মহল। সরেজমিনে দেখা যায় জাদা গ্রামে আজিজ মাস্টারের মোর অসংলগ্ন পাশের আমন ধানের ক্ষেত লাগোয়া পুকুরে দুটি ড্রেজিং মেশিন স্থাপন করে জমির তলদেশ হতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলনকৃত বালু মুলত কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের জন্য ‘স্যান্ড ফিলিং’ এর কাজে ব্যবহার করছে সংশ্লিষ্টরা। কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সীমান্তবর্তী কালিন্দি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত দুই হাজার নয় শত মিটার রাস্তা ভরাটের কাজে একই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হবে বলেও জানান তারা। জানা গেছে দীর্ঘ দিন ঝুলে থাকার পর ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এসে এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সন্ন্যাসী ডাক্তারের বাড়ি হয়ে সীমান্তবর্তী কালিন্দি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ইটের সোলিংকৃত রাস্তার কার্পেটি এর কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে দুই হাজার নয় শত মিটার রাস্তার কাজ চলতি অর্থ বছরে সম্পন্নের নির্দেশনাও রয়েছে স্থানীয়রা জানান বক্স কাটিং এর কাজ সম্পন্ন করেই স্যান্ড ফিলিং এর জন্য সরকার নির্ধারিত বালু মহল থেকে প্রয়োজনীয় বালু না এনে পাশের ফসলী জমির প্রায় সত্তর ফুট গভীর থেকে ড্রেজার মেশিনের সহায়তায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একাধিক গ্রামবাসী জানান ঠিকাদারের নিকট থেকে পাতড়াখোলা গ্রামের নুর ইসলাম ও আনছার আলী ঐ রাস্তার স্যান্ড ফিলিং এর কাজ সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছে। সাড়ে ছয় টাকা ঘন ফুট হিসেবে চুক্তি মোতাবেক তারা রাস্তার কাজের জন্য বালু সরবরাহের দায়িত্ব নিলেও এখন পাশের জমি থেকে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন কয়েকজন জমির মালিককে দেড় টাকা ফুট হিসেবে অগ্রীম টাকা পরিশোধ করে নুর ইসলাম ও আনছার আলী নিজেদের লোকজন নিয়ে দিন রাত ধরে দু’টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। কয়েকজন জমির মালিক টাকা নিতে সম্মত না হওয়ায় রাস্তার কাজে বালু উত্তোলনের সুযোগ দিতে তাদের নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন। রফিকুল মল্লিকের অভিযোগের কারণে তার বাড়ির পাশ থেকে ড্রেজার মেশিন সরিয়ে দূরে বসিয়ে বালি উত্তোলন করছে বলেও অভিযোগ করেন। আবুজার রহমানসহ কয়েকজন গ্রামবাসী জানান সুন্দরবন সংলগ্ন ও ভারত সীমান্তবর্তী এলাকাটি অত্যন্ত দুর্যোগ প্রবণ। বাঁধ ও নদী ভাঙন এখানে নিত্যকার ঘটনা। এমতাবস্থায় ফসলী জমি থেকে বোরিং করে বালু উত্তোলনের কারনে সামনের দিনগুলোর কথা ভেবে তারা রীতিমত শংকিত। স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সবাইকে ম্যানেজ করেই সেখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলন নিয়ে কথা বললে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানীরও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন। এদিকে বালু উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা নুর ইসলাম বলেন, কাউকে কোন হুমিক দেয়া হয়নি। উন্নয়ন কাজের স্বার্থে পাশের জমি থেকে বালু নেয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় বালু পাওয়া যাচ্ছে না-উল্লেখ করে তিনি বলেন সাড়ে ছয় টাকায় চুক্তির বালু দশ কিলো মিটার দুর থেকে এনে পোষাবে না। বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। এক পর্যায়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যেয়ে ‘চা-পানি’ খাওয়ারও দাওয়াত দেন তিনি সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্নধার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্থানীয় নুর ইসলাম ও আনছার আলী বালু সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েছে। তবে কোথা থেকে বালু দিচ্ছে বা দিবে তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সুধীন কুমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টা আমি জানি, আপনি আমার এসিলেন্ট স্যারের সাথে কথা বলেন।