রাজনীতি

‘ডিজিটাল’ হচ্ছে তৃণমূল আ. লীগ!

By Daily Satkhira

May 25, 2017

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম যতটা ডিজিটাল, তৃণমূল ঠিক ততটা নয় বলে মনে করেন দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ৯০ শতাংশ কার্যক্রম এখনও ‘এনালগ’ পদ্ধতিতেই চলছে। জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যলয়ে কোনও ই-মেইল আইডি নেই। ফলে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয় অথবা কুরিয়ার যোগে চিঠি পাঠাতে হয়। এর ফলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত দ্রুত তৃণমূলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এতে অনেক সময় জটিলতা সৃষ্টি হয় দলে। এ কারণে আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সব ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ডিজিটালে রূপান্তর করতে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দলটির দফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন, তৃণমূল এখনও নেতারা ‘এনালগ’। তারা মেইল বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারেন না। ফলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ কারণে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। যা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমস্যায় ফেলতে পারে। এ সব সমস্যার কথা মাথায় রেখে দেশের  প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় একটি করে ল্যাপটপ উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গত শনিবার (২০ মে) দলের বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে এসব ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। ল্যাপটপ বিতরণকালে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এগুলো ঘরে ফেলে রাখার জন্য নয়, দলের সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে।’  এ সময় সবাইকে ল্যাপটপ চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তর করতে প্রাথমিক পর্যায়ে জেলা উপজেলার দফতর, প্রচার, তথ্য ও গবেষণা বিভাগের নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।  এই প্রশিক্ষণ আগামী জুন-জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রশিক্ষণে নেতাদের ই-মেইল ব্যবহার, টাইপ শেখানো, চিঠিপত্র লেখা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সিআরআইয়ের মাধ্যমেই এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘অধিকাংশ জেলায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মোবাইল ফোন। আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠাতে হয়। তাই জেলায় দাফতরিক কাজে গতি আনতে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। যেন ই-মেইল আইডি খোলা যায় আর এগুলো ব্যবহার করে দ্রুত তথ্য সরবরাহ করা যায়।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান করা যায়। তাই  তৃণমূল নেতাদের প্রযুক্তি নির্ভর করে তুলতে জেলার সাংগঠনিক কাজে ব্যবহারের জন্য ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। এগুলো যেন দলের দফতর ও প্রচার সম্পাদক ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্যে প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য যেমন দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তেমনি তা সংরক্ষণও করা যায়।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জেলা-উপজেলার অধিকাংশ নেতার মেইল আইডিও নেই। ফলে প্রযুক্তিবান্ধব তৃণমূল না হওয়ায় জটিলতায় পড়তে হচ্ছে দলকে। তাই  তৃণমূল নেতাদের প্রযুক্তি-নির্ভর করতে আওয়ামী লীগ উদ্যোগ নিয়েছে।’