সাতক্ষীরা

নিরাপত্তাহীনতায় পাচারের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া তিন নারী !

By Daily Satkhira

August 22, 2016

এম বেলাল হোসাইন: পাচারকারীদের কবল থেকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ৩ নারী উদ্ধার হলেও মামলা হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু উঠতি নেতাদের ছত্রছায়ায় রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে পাচারকারীচক্র। এতে করে এলাকায় সাধধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাচারের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া ওই নারীদের শাসানো হয়েছে মামলা না করার জন্য।

এলাকাবাসী জানায়, সদর উপজেলার দক্ষিণ ফিংড়ী গ্রামের আহম্মদ আলীর স্ত্রী পারুল বিবি বিদেশে চাকুরি দেয়ার নাম করে একই গ্রামের আকের আলীর মেয়ে ছালমা খাতুন, রুহুল আমিনের স্ত্রী সাথী ও আবুবক্কারের স্ত্রী খাইরুন্নেছাকে পাচার করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কিন্তু পারুলের চালাকি বুঝতে পেরে স্থানীয়ভাবে সাথী ও খায়রুন্নেছা কেটে পড়ে। ছালমা খাতুন পরিবহনে উঠে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরিবহনের মধ্যে ভাল না লাগায় ফরিদপুর থেকে নেমে পড়ে। ছালমা গাড়ি থেকে নামার পর পড়ে সমস্যায়। পাচারকারীর কবল থেকে মুক্তি পেলেও মুক্তি পায়নি মুখোশধারীদের কবল থেকে। ছালমাকে রাতের আধারে একা পেয়ে ৪/৫ জন মুখোশধারীরা ছালমার কাছে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিস পত্র কেড়ে নেয়। ছালমার চিৎকারে পার্শ্ববতী এলাকার লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। ছালমা বাড়িতে ফিরে আসার পর ফিংড়ী এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসি পারুলের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে আটক করে। কিন্তু এতে বাধ সাধে কিছু পাতি নেতা। তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য শালিসী বৈঠক বসায়। থানা পুলিশ না করার জন্য শাসানো হয় ছালমাকে। ছালমা জানায় পারুল বিবি তাকে বিদেশে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেয়। ফরিদপুর পৌছানোর পর পাচারকারীদের কথাবার্তা শুনে তার সন্দেহ হলে বাস থেকে নেমে পড়ে। এরপার সে এক পরিবহন চালকের মাধ্যমে বাড়ি ফিরে আসে। বাড়িতে এসে বিষয়টি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল তাকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেয়। এতে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানায়। এব্যাপারে এলাকাবাসি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।