সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় ১৪ বছরে ৯টি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি

By daily satkhira

March 08, 2022

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১৪ বছরে ৯টি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ও জেল হাজত খাটিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, সদর উপজেলার মাধবকাটি গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর পুত্র শফিকুল ইসলাম। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি একাধারে ফোরকানিয়া কোরআনিয়া মাদ্রাসার সভাপতি, মাধবকাটি প্রাইমারী স্কুলের সহ-সভাপতি, মাধবকাটি কাঁচা বাজার জামে মসজিদের সদস্য ও বলাডাঙ্গা হেফজখানার সদস্য। একই এলাকার মৃত মাদার মোড়ল(পাগলা মোড়ল) এর পুত্র ওয়ারেশ আলীর সাথে আমার ছাগল বাধাকে কেন্দ্র বিরোধ চলে আসছিল।

এরই জের ধরে আমাকে সর্বশান্ত এবং হয়রানির করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে ওয়ারেশ আলী। একপর্যায়ে গত ০১/১০/২০০৯ সালে ওয়ারেশ আলী তার কন্যাকে ধর্ষন চেষ্টার একটি মিথ্যা নাটক সাজিয়ে নিজে বাদী হয়ে আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। যার নং- ৪১৮৫। উক্ত মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত উক্ত মামলা খারিজ করে দেন। ওই মামলা খারিজ হওয়ার পর ১৯/০২/২০১০ তারিখে ওয়ারেশ আলী আমার বিরুদ্ধে আদালতে আরো একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। উক্ত চাঁদাবাজির মামলাও খারিজ করে দেয় আদালত। এর পর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাবাজ ওয়ারেশ আলী তার আতœীয় স্বজনদের বাদী করে আদালতে একের পর এক আরো ৩টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যা আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হয়। এছাড়া আরো ৩টি পেন্ডিং মামলা জাড়িয়ে দেয়। অথচ উক্ত মামলায় আমার কোন নাম নেই। তিনি বলেন, আমি ঢাকা থাকাকালিন ওয়ারেশের কন্যার ভাসুর ডাকাতী মামলার আসামী মিজানুর রহমানকে দিয়ে সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করে। আমি বাড়ি ফিরে আসার পর ওয়ারেশ এবং মামলা বাদী মিজানুর পুলিশ নিয়ে আমাকে চিনিয়ে দেয়। পর দিন ১৮.১২.২০২১ তারিখে পুলিশ আমাকে আটক করে ওই ছিনতাই আটক দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে। অথচ আমাকে যে ঘর থেকে আটক করা হয় সে ঘরের কোন দরজা,জানালা নেই। ঘরটির সংস্কার কাজ চলমান। এরপর গত ৩০/১২/২১ তারিখে আমার রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়। রিমান্ডে আসার পর রাত ২টার সময় আমাকে সাথে নিয়ে আমার বাড়ি যান পুলিশের সদস্যরা। পুলিশ তদন্তে যেতে পারে এমন খবর পেয়ে ওয়ারেশ এবং তার পুত্র আবুল বাশার আমার ওই সংস্কারাধীন ঘরের মধ্যে এক জোড়া হ্যান্ড ক্যাপ,এ এসআই পদমর্যাদার দুটি ফুল,২০ হাজার ৭শ টাকা, ওয়াকিটকিসহ কিছু মালামাল রেখে আসে। পুলিশ সেখানে গিয়ে ওয়ারেশ ও তার পুত্রের রেখে যাওয়া মালামালগুলো উদ্ধার করে জব্দ তালিকায় দেখায়। অথচ যে ঘর থেকে মালামালগুলো উদ্ধার করা হয় সে ঘরটিতে কাজ হচ্ছে। সেখানে শুধু মাত্র একটি ভাঙ্গা বাক্স ছিলো। এছাড়া উক্ত মিথ্যা মামলায় কারাগারে অন্তরীন থাকায় অবস্থায় জি আর ০৯, তাং- ০৬.০১.২০২২ নং ছিনতাই মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কারাগারে থেকে কিভাবে ছিনতাই করা যায় সেটি বুঝতে পারলাম না। তিনি বলেন, ওয়ারেশ একজন ভূমিদস্যু, ডাকাত এবং মামলাবাজ। ১৯৭৩ সালের আষাড় মাসে ডাকাতির মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের আপন ফুফাতো ভাই রামেডাঙ্গা গ্রামের পাগল বদ্দীকে হত্যা করে ওয়ারেশ। এছাড়াও ওয়ারেশের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা রয়েছে। তার অদৃশ্য ক্ষমতার কারনেই কারাগারে থেকেও ছিনতাই করতে পেরেছি, পাসপোর্ট ভারতে থেকেও ধর্ষন চেষ্টা করেছি। ওই ডাকাতের ষড়যন্ত্রে আমি আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছি। একের পর এক ওয়ারেশ এবং তার আতœীয় স্বজনদের দায়েরকৃত মিথ্যার কারনে আমি পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছি।

পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বসবাসও করতে পারছি না। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় ওয়ারেশ গংয়ের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পেতে এবং তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।