ফিচার

জীবন-জীবিকা খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জলাভূমি সুরক্ষার অঙ্গীকার

By daily satkhira

February 02, 2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জলাভূমি সুরক্ষার অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পালিত হয়েছে বিশ্ব জলাভূমি দিবস-২০২৬।

এ উপলক্ষে রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার মুন্সিগঞ্জের চুনকুড়ি নদীর পাড়ে ‘জলাভূমি ও প্রথাগত জ্ঞান: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদ্যাপন’ প্রতিপাদ্যে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, গ্রীন কোয়ালিশন ও সুন্দরবন ইয়ুথ সলিডারিটি টিম ‘জলাভূমি সুরক্ষায় উপকূলবাসীর অঙ্গীকার’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা জলাভূমি, নদী, খাল-বিল ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।

পরে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মুন্সিগঞ্জ গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ডা. যোগেশ মন্ডল।

সভায় বারসিকের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স.ম ওসমান গনীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরীপুর গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান, সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান তালেব, মথুরাপুর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক সরমা রানী, কৃষক নিমাই মন্ডল এবং সুন্দরবন ইয়ুথ সলিডারিটি টিম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সবুজ বিল্লাহ, বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন-জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জলাভূমি অপরিহার্য। প্রথাগত জ্ঞান ও স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জলাভূমি সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

গ্রাম ডা. যোগেশ মন্ডল বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাভূমি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এগুলো ধ্বংস হলে শুধু পরিবেশ নয়, উপকূলবাসীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেই জলাভূমি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

রামকৃষ্ণ জোয়ারদার বলেন, উপকূলীয় জলাভূমি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। প্রথাগত জ্ঞান ও কৃষকের অভিজ্ঞতা জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যা আমাদের নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি।

বিশ্বজিৎ মন্ডল বলেন, নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয় দখল ও দূষণের ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ পরিবেশ পাবে না।

এম. জিল্লুর রহমান বলেন, খাল-বিল ও জলাভূমি রক্ষা মানেই কৃষি, মৎস্য ও জীবিকার সুরক্ষা। স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জলাভূমি রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

মাহফুজুর রহমান তালেব বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদীগুলো আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া এসব প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়।

সরমা রানী বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ের সঙ্গে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জলাভূমি টিকিয়ে রাখলে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

নিমাই মন্ডল বলেন, আমরা কৃষকরা জানি কোন মৌসুমে পানি ধরে রাখতে হয়, কখন ছাড়তে হয়। আমাদের এই প্রথাগত জ্ঞানকে গুরুত্ব দিলে জলাভূমি রক্ষা করা সহজ হবে।

সবুজ বিল্লাহ বলেন, যুব সমাজ এগিয়ে এলে জলাভূমি সুরক্ষা আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদী ও জলাশয় রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। #