ফিচার

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আয়োজনে সংবাদকর্মীদের প্রাণের মেলা

By daily satkhira

February 07, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের যান্ত্রিকতা আর সংবাদের অন্তহীন ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে শুক্রবার একটি দিন যাপন হলো আপনজনেদের সঙ্গে। বসন্তের আগাম বারতায় সবুজে ঘেরা সাতক্ষীরার মোজাফফর গার্ডেনের মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বার্ষিক বনভোজন ও সাংবাদিক পরিবারের মিলনমেলা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিনভর চলে উৎসবের এই আমেজ। উৎসবটি যেন বয়ে এনেছিল এক বসন্ত আনন্দ।

সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা সপরিবারে সমবেত হতে থাকেন মোজাফফর গার্ডেনে। কুয়াশার চাদর সরিয়ে রোদ ঝলমলে সকালে শিশুদের কোলাহল আর কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে এক খন্ড সবুজ চত্বর। পেশাগত সম্পর্কের কঠোর গণ্ডি পেরিয়ে এদিন সবাই যেন মিশে গিয়েছিলেন এক বৃহৎ পরিবারের বন্ধনে।

আয়োজনের শুরুতেই ছিল শিশুদের বাস্কেটে বল নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা। এরপর একে একে বড়দের জন্য বাস্কেটে বল নিক্ষেপ, নারীদের পিলো পাসিং এবং ঐতিহ্যবাহী হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন অতিথিরা। দুপুরের ভোজে ছিল রসনাবিলাসের আয়োজন, যার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এ পর্বে মিলেছিলেন সাতক্ষীরার সাংস্কৃতির অঙ্গনের একঝাঁক তারকা। আবু আফফান রোজ বাবু, চৈতালী মুখার্জী, মনিরুল ইসলামের মতো বরেণ্য শিল্পীরা। সুর ও ছন্দের আবেশ ছড়িয়ে মঞ্চে উঠে আসে আবৃত্তি ও অভিনয়। সুরের তালে তাল মিলিয়ে নৃত্য পরিবেশন ছিল নান্দনিক। শিশুদের আবৃত্তি, পাঁচমেশালি আয়োজন ছিল হৃদয়হরা।

বিকেলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল বিশেষ আকর্ষণÑ’স্বামী সম্পর্কে স্ত্রীর অভিমত’। হাস্যরসে ভরা এই পর্বে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে উপস্থিত দর্শকদের বিনোদিত করেন সাংবাদিক পত্নীরা। এ ছাড়া আবৃত্তি, নৃত্য ও গানের মূর্ছনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছায়। লটারির ড্র ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনটির সমাপ্তি ঘটে। দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জিএম নূর ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, মমতাজ আহমেদ বাপী, সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর মতো তুখোড় সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ এ উৎসবের আনন্দমাত্রায় নতুন পালক যুক্ত করে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একাধিক সাংবাদিক বলেন, “সাংবাদিকতার পেশা মানেই প্রতিনিয়ত চাপের মধ্যে থাকা। বছরের এই একটি দিন পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। এমন আয়োজন আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব আর ভালোবাসার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।” দিগন্তজোড়া সবুজের মাঝে হাসি, আড্ডা আর স্মৃতিচারণের এই মিলনমেলা সন্ধ্যায় যখন শেষ হয়, তখন সবার চোখেমুখে ছিল একটিই প্রত্যাশা—এমন প্রাণের মেলা যেন বারবার ফিরে আসে।