নিজস্ব প্রতিনিধি : নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আসাদুল হকের বাগান বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। রবিবার রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদরের বৈচানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল হকের স্ত্রী মেহেরুন্নছা জানান, রবিবার রাত ৯টার দিকে তিনি বৈচানা গ্রামে নিজ বাগান বাড়ির দোতলায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি ৬০ থেকে ৭০ জন লোক তার বাড়ির সামনের প্রাচীর, পুকুরের প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এর পরপরই হামলাকারিরা তার বাড়ির মূল ফটক, দুটি সিসি ক্যামেরা, জানালার গ্লাস ভাংচুর চালায়।
পরে তারা বাগান বাড়ির ভিতরে এলোপাতাড়ি ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। গাছের ডাল ভাংচুর করে। আধ ঘণ্টাব্যাপি ভাংচুর চালানোর পর হামলাকারিরা চলে যায়। বিষয়টি সদর থানাকে অবহিত করা হয়। চলে যাওয়ার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ও কয়েকজনের সাথে কথা বলে কুলিয়ার সবুজ চ্যেধুরী, জিয়াউর রহমান, বাপ্পি, নাসিরউদ্দিন, আনারুলসহ কয়েকজনের নাম জানতে পারেন।
আসাদুল হক জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট রাতে তার বাগানবাড়িতে হামলা, ভাংচুর শেষে নগদ তিন লাখ ১৩ হাজার টাকাসহ ৪২ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এর সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি আরো জানান, ৩০ বছর যাবৎ জেলা পরিষদ থেকে ডিসিআর নিয়ে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কাছে প্রায় আধা কাঠা জমিতে চারটি পাকাঘর বানিয়ে তাতে নিজের অফিস বানানোসহ একজনকে একটি ঘর ভাড়া দেন।
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত মাসুম চৌধুরী তার ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দিয়ে ২০২৪ সালের ৯ আগষ্ট সবকটি ঘর দখল করে নেয়। বর্তমানে জবরদখল করে সেখানে অবস্থান করছে মাসুদ চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি সাতক্ষীরায় অবস্থান করছিলেন। আবারো পরিষদে দায়িত্ব পালন করবেন এমন খবর পেয়ে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অংশ হিসেবে মাসুম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপি কর্মী জিয়াসহ বাপ্পি, নাসিরুল, আনারুলসহ ৬০/৭০ জন রবিবার রাত ৯টার দিকে তার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রাতেই পুলিশ পাঠানো হয়। রবিবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।