নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় কুমার জোয়ার্দারসহ তার পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী স্ত্রী মুক্তি সরকার (৩৫) বাদী হয়ে গত ০৪/০৩/২০২৬ তারিখ (বুধবার) আশাশুনি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। (মামলা নং-০২)।
মামলার আসামিরা হলেন, আশাশুনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার (৩৭), প্রেমিকা ফাগুনী সুমি কাসারী (২৫) , বিজয় কুমার জোয়াদ্দারের মাতা উষা রাণী জোয়ার্দার (৬৫), বাবা পরিমল কুমার জোয়ার্দার (৭০) ও ভাই পরিতোষ কুমার জোয়ার্দার (৩২)।
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে আদালতের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে হিন্দু রীতিনীতি অনুযায়ী বিজয় কুমার জোয়ার্দারের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিজয়ের আবদার অনুযায়ী বিভিন্ন আসবাবপত্র ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৬ লক্ষ টাকার উপঢৌকন প্রদান করে মুক্তির পরিবার। তবে সম্প্রতি নিজ গ্রামে ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য বিজয়ের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও ৫০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মুক্তির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।
মুক্তি সরকার আরও অভিযোগ করেন, অতীতে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে গর্ভপাতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই যান। ভারত থেকে ফিরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আশাশুনিতে এসিল্যান্ডের সরকারি বাসভবনে অবস্থানকালীন আবারও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে বেধড়ক মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এছাড়া এজাহারে উল্লেখিত ২নং আসামি ফাগুনি সুমি কাসারির সঙ্গে বিজয় কুমার জোয়ার্দারের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়েও অভিযোগ আনা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী-০৩) এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগের সত্যতা জানতে আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় কুমার জোয়ার্দারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তার ফোনটি রিসিভ করেননি।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।