অনলাইন ডেস্ক : বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর ও নববধূসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে ১৪ জনই নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের যাত্রী।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে মোংলা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী আঞ্জুমান বেগম, তার ছেলে সাব্বির (বর), ইমরান, আল আমিন, মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখ, নববধূ মার্জিয়া মিতু, কনের বোন লামিয়ার নাম পাওয়া গেছে।
এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৩ জন নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জলবায়ু, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
রামপাল থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর স্টাফবাসের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, চার নাতি, কনে ও তার এক স্বজনসহ ১২ জন ও মাইক্রোবাসের চালক। রামপাল রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, “দুর্ঘটনায় চারজনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। আহত দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ”
কাটাখালি হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক কেএম হাসানুজ্জামান বলেন, “নৌবাহিনীর বাসটি খুলনার দিকে এবং মাইক্রোবাসটি মোংলায় যাচ্ছিল। পথে বেলাইব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, “সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর তিনজন পুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। তার চিকিৎসা চলছে।”