ফিচার

ইতিহাসের বিচার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা: ফুল কি ক্ষমা করতে পারে?

By daily satkhira

March 26, 2026

​জুলাইয়ের রাজপথ যখন ছাত্র-জনতার রক্তে ভিজেছিল, তখন যারা সেই দমন-পীড়নের নেপথ্যে ছিলেন, তারা যদি কয়েক বছর পর এসে সেই শহিদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যান—তবে সেই দৃশ্যটি কি একটি জাতির জন্য স্বস্তিদায়ক নাকি চরম অপমানের?

​একাত্তর থেকে চব্বিশ: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ​আজ স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পরে যখন একাত্তরের গণহত্যার সহযোগী রাজনৈতিক দল স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধা জানায়, তখন মনের কোণে অনেক প্রশ্ন জমা হয়। সেদিন যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে বাঙালির রক্ত বইয়ে দিয়েছিল, আজ তারা কেন স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যায়?

​এখানেই বড় বৈপরীত্য দেখা দেয়। একাত্তরের সেই ঘাতকরা ধর্মের অপব্যবহার করে গণহত্যাকে বৈধতা দিতে চেয়েছিল। আজ একইভাবে তারা জনমানুষের সহানুভূতি পেতে ধর্মের দোহাই দিচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অপরাধের বিচার না হলে এবং রাজনৈতিক আদর্শে পরিবর্তন না আসলে কেবল ফুলেল শ্রদ্ধায় রক্তের দাগ মুছে যায় না।

​জুলাই শহিদ এবং অনাগত আগামীর প্রশ্ন ​জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। যারা এই খুনের হুকুমদাতা বা সহযোগী ছিল, তারা যদি অনুশোচনা ছাড়াই কেবল রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে শহিদ মিনারে বা স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যায়, তবে তা হবে নিহতদের প্রতি দ্বিতীয়বার উপহাস। ​কেন এটি অগ্রহণযোগ্য হতে পারে?

​বিচারের দাবি: যতক্ষণ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া এবং অপরাধের স্বীকৃতি না আসছে, ততক্ষণ প্রতীকী শ্রদ্ধা প্রদর্শন কেবল একটি আইনি ঢাল হিসেবে কাজ করবে। ​আদর্শিক বিচ্যুতি: যারা একাত্তরে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়েছিল এবং যারা চব্বিশে স্বৈরাচারের দোসর ছিল—তাদের আদর্শিক কোনো পরিবর্তন কি ঘটেছে? ​জন আকাঙ্ক্ষা: জুলাই বিপ্লবের মূলে ছিল ন্যায়বিচার। খুনি বা তার সহযোগীদের ফিরে আসা এবং স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া কেবল তখনই সম্ভব, যখন তারা তাদের অপরাধের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং বিচারের মুখোমুখি হবে।

​উপসংহার ​ইতিহাস অত্যন্ত নির্মম। আপনি মানুষের রক্ত নিয়ে হোলি খেলবেন, আর সময়ের আবর্তে কেবল ধর্মের দোহাই দিয়ে সবকিছু ধামাচাপা দিতে চাইবেন—তা আধুনিক প্রজন্মের কাছে অগ্রহণযোগ্য। শহিদদের স্মৃতি রক্ষা কেবল ফুল দিয়ে হয় না, হয় তাদের আদর্শ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। খুনি বা তার সহযোগীদের ফুল কোনোভাবেই শহিদদের রক্তকে ধুয়ে দিতে পারে না।

লেখক:  মোল্ল্যা মুহাম্মদ শাহাজুদ্দীন সাধারণ সম্পাদক : সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদল