প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি নিচ্ছে না সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন। গত ১১ মার্চ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সাতক্ষীরার সরকারি দুই স্কুলে ভর্তি কমিটির সভায় অভিভাবকগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়।
কিন্তু ১ মাস অতিবাহিত হলেও নিজের দাম্ভিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজনকেও ভর্তি করেন নি সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীন। একজন অবিভাবক তার সন্তানকে ভর্তি করতে গেলে ভর্তি কমিটির উক্ত সিদ্ধান্ত মানেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলা সদরে সরকারি স্কুলে ভর্তি কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও সরকারি স্কুলের সিনিয়র প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কমিটিতে সদস্য হিসেবে সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, জেলা শিক্ষা অফিসার, সরকারি দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ভর্তি নীতিমালা ২০২৫ অনুয়ায়ী জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি বরাবর আবেদন করেন অবিভাবকগণ।
আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে আবেদনকারীদের সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করেন। আবেদনগুলো নিয়ে গত ১১ মার্চ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে ভর্তি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্কুলে ভর্তির নীতিমালা উপস্থাপন করেন। প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে ১৩ জনকে সাতক্ষীরা শহরের সরকারি দুই স্কুলে ভর্তির জন্য সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ জন, বাকী ৭ জন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রত্যেক আবেদনকারীর সকল তথ্য ও উপাত্ত এবং সভার রেজুলেশন স্কুলে পাঠানো হয়। আবেদনের নামের পাশে কোন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সভার একমাস অতিবাহিত হলেও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থীকে এখনও ভর্তি করানো হয় নি। এমনকি কোন শিক্ষার্থীর অবিভাবকের সাথে যোগাযোগও করা হয়নি। কেউ কেউ যোগাযোগ করলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীন ঐ স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক অন্যত্র বদলি হওয়ায় তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রশাসন সূত্র আরো জানায়, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভার একজন সদস্য হওয়ার পরেও তিনি সভায় সিদ্ধান্ত মানছেন না। সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা শাহিদুন নেছা জানান, আমার ছোট মেয়েকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য জানুয়ারি মাসে আবেদন করি। সেই আবেদন যাচাই-বাছাই করে ভর্তির জন্য ভর্তি কমিটি সহদর কোটায় সুপারিশ করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। স্কুলে যোগাযোগ করলে প্রধান শিক্ষক ৮ এপ্রিল ভর্তি ফিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু ঐদিন ভর্তি না করিয়ে আমাকে কয়েক ঘন্টা স্কুলে দাড় করিয়ে রেখে অনেক অপ্রাসঙ্গিক, অবান্তর ও অসম্মানসূচক কথাবার্তা বলে বলেন, আপনাকে এই (আবেদনের) পরামর্শ কে দিয়েছে? এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীন ও সহকারী শিক্ষক বাবুল আহসান স্কুল থেকে আমাদের অপেক্ষা করতে বলে বেরিয়ে যান। প্রায় দেড় ঘন্টা পরে এসে বলেন আপনাকে মেয়েকে ভর্তি এখন করা হবে না, আপনারা চলে যান। ফলে আমরা চলে আসি। ভর্তির বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলেন জানা যায়, স্কুল থেকে তাদের জানানো হয় নি। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, কারো সাথে যোগাযোগ না করলে তারা এ বিষয়ে জানতে পারবে না। ভর্তি কমিটির পরবর্তী সভায় স্কুল থেকে জানানো হবে কেউ ভর্তি হয়নি। তখন নিজেদের পছন্দের শিক্ষার্থীকে ভর্তি সুযোগ পাবেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। কারণ ভর্তি নীতিমালার ১১.৮ এ বলা হয়েছে কোটাভূক্ত পাওয়া না গেলে সাধারণ কোটা থেকে উক্ত আসনে ভর্তি করতে হবে। কোন অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীন জানান, আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্যারকে একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে অবগত করেছি। ২০২৫ সালে দুইটি আবেদন করেছিলেন, তাই ভর্তি নেয়া হয় নি। তাদের আবেদন গ্রহণ করেছি। তবে এখনও ভর্তি নেয় নি।