নিজস্ব প্রতিনিধি : বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমকে তাড়াতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মানহানি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন আশাশুনি উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র এবং বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মো: সালিম উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ২০১২ সালের শেষের দিকে বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। সে সময় মাও: আমজাদ হোসেন নামের একজন শিক্ষক ছিলেন কিন্তু আমি যোগদানের কিছুদিন পর তিনি চলে যাওয়ায় আমি মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থী সংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল। আমি যোগদানের পর থেকে রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়ার মান উন্নয়নের চেষ্টা করি। সে সময় প্রতিষ্ঠানের কোন ভবনও ছিল না। একচালা টিনসেডের চাল ছিলো। আমি যোগদানের পর থেকে বিত্তশালী ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে দুইতলা মসজিদসহ অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে।
পড়াশোনার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬-৭জন শিক্ষার্থী থেকে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা দাড়িয়েছে সাড়ে চারশ এবং শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে বর্তমানে ২৯ জন। এতে অভিভাবক এবং এলাকাবাসী অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলো পাশাপাশি দারুন পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও খুশি মনে পড়াশোনা করে আসছিল। যেকারনে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার শ্রেষ্ঠ কওমি প্রতিষ্ঠান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং আমার সুখ্যাতিতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। তবে কোনভাবে আমাকে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানকে দমাতে পারেনি। একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তির কথায় প্রভাবিত হয়ে জমিদাতা মো: তমেজউদ্দিন গাজী সাম্প্রতিক সময়ে আমার উপর মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জমিদাতা তমেজউদ্দিন গাজী আমাকে ফোন দিয়ে মাদ্রাসায় না যাওয়ার জন্য বলে। সে কারনে আমি মাদ্রাসায় যায়নি।
তিনি বলেন, জমিদাতার নির্দেশে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করেছি। অথচ ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরার স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইনে আমার বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যেটার কোন ভিত্তি নেই। মাদ্রাসার ফোন অফিসিয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হত। কিন্তু তাই বলে আমার ব্যক্তিগত নাম্বার আমি ব্যবহার করতে পারবো না এটা কিভাবে হতে পারে? অফিসিয়াল কাজে মাদ্রাসার নাম্বার ব্যবহার করেছি। কওমি মাদ্রাসার নিয়ম মেনেই দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে এসেছে। আয় এবং ব্যায়ের হিসাব প্রতি মাসেই করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দায়িত্ব প্রাপ্ত মাও: ইলিয়াস, আলহাজ¦ ইয়াহিয়া আলম এবং রফিকুল ঢালী প্রতি মাসেই হিসাব নিতো এবং হিসাব খাতায় তাদের স্বাক্ষরও আছে। তাহলে হিসাবের গড়মিল কিভাবে হল বা আত্মসাত হল। প্রকৃতপক্ষে আমার সুনাম সুখ্যাতি নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনেই এধরনের মিথ্যাচার করা হয়েছে।
এতে আমার মান হানি হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ওই মহলটি মূলত প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার জন্যই গভীর চক্রান্তে নেমেছে। তিনি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর সাথে সাথে সকলকে মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ##