ফিচার

আশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসি

By daily satkhira

May 07, 2026

আশাশুনি প্রতিনিধি: ভৌগোলিক কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল আশাশুনি (প্রতাপনগর) জলবায়ু পরিবর্তনের এক চরম শিখরে পৌঁছেছে । নদীভাঙন আর লবণাক্ততার গ্রাসে প্রতিবছর ভিটেমাটি হারিয়ে অগণিত মানুষ পরিণত হচ্ছে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুতে’। বাস্তুচ্যুত এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত ও অধিকার আদায়ে আশাশুনি উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ‘অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টায় কারিতাস বাংলাদেশ (খুলনা অঞ্চল)-এর ডিআরআর ও সিসিএ প্রকল্পের উদ্যোগে এবং জার্মানি ও বিএমজেড-এর আর্থিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। ক্যাম্পেইনে বক্তারা উপকূলীয় জীবনের রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাস আশাশুনির মানুষের ললাটে স্থায়ী অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লবণাক্ততার কারণে কৃষি ধ্বংস হওয়ায় এবং ভিটেমাটি হারিয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে যাযাবর জীবন বেছে নিচ্ছে। উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে ক্যাম্পেইন পূর্ববর্তি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু দাউদ ঢালী, প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সোহরাব হোসেন, ইউপি সদস্য রায়হানুজ্জামান, অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর কাকলি হালদার, শেখ কামাল হোসেন (এফও), মিহির সরকার (এমও), প্রজেক্ট স্টাফ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত হওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কারিতাস ডিআরআর প্রকল্পের এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলোঃ নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার মানুষগুলো কেবল ত্রাণ নয় বরং তাদের ন্যায্য অধিকার ও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পায়। এ প্রেক্ষিতে জলবায়ু-অভিবাসিত পরিবারগুলোর তালিকা প্রনয়ন করে সরকারী সহায়তার আওতায় আনা, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসন, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী গ্রহণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচী (ভিজিডি, ভিজিএফ, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামীপরিত্যাক্ত ভাতা, বয়স্কভাতা ইত্যাদি) প্রদানে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীন অভিবাসিদের পুনর্বাসনের জন্য টেকসই পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন, নদীভাঙ্গন রোধে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানি প্রাপ্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিষয়গুলি বিবেচনায় নিতে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত হওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। তাদের চোখে-মুখে ছিল হারানো ঘরবাড়ি ফিরে পাওয়ার আকুতি আর আগামীর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির প্রত্যাশা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকাবাসী।