নিজস্ব প্রতিনিধি : পেশাদার সাংবাদিকদের সাথে সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের অসৌজন্য মূলক আচরণে হতবাক হয়েছেন মুলধারার সাংবাদিক সমাজ। তাঁরা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন,জেলা প্রশাসকের মতো দয়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরণের আচরণ রাস্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়।
জেলা তথ্য অফিস সূত্রে জানা যায়,বর্তমান নির্বাচিত সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়নের আওতায় প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে বুধবার সাড়ে এগারটার দিকে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যান। এসময় তাঁরা প্রায় সব হলূদ ও ভূইফোড় সাংবাদিকদের চেয়ার দখল করে বসে থাকতে দেখেন। এমতাবস্থায় নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন। মুলধারার সাংবাদিকদের দাড়িয়ে রেখে তিনি ব্রিফিং শুরু করতে থাকেন। এসময় দাড়িয়ে থাকা সিনিয়র সাংবাদিকরা চেয়ার না পাওয়ার কথা জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি বলেন,‘‘আগে থেকে না আসলে চেয়ার পাওয়া যাবেনা। আগে যারা আসবে,তারা আগে বসবে। ‘’ তাঁর এ কথায় হতবাক হয়ে যান সাংবাদিকরা। সিনিয়র সাংবাদিকরা এসময় পরবর্তী সময়ে ব্রিফিংয়ের আবেদন জানালে তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন,‘‘ ব্রিফিং এক বারই হবে। ‘’ বসার জায়গা না পেয়ে অগত্য সাংবাদিকরা সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করার উদ্যোগ নিলে জেলা প্রশাসক বলেন,‘ চলে যাওয়া সাংবাদিকরা সরকার বিরোধী লোক। ‘’
এবিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন,‘ বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত জানতে খুবই আগ্রহ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু বসার জায়গা না পাওয়া ও জেলা প্রশাসকের অসৌজন্যমুলক আচরণে আমাদের চলে আসা ছাড়া পথ ছিলনা। ‘’ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন,‘‘ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা মুলধারার সাংবাদিকরা সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ডের সকল খবর প্রচার করে আসছি। ‘’’
তিনি আরও বলেন,‘‘ গত ১লা এপ্রিল বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের শ্যামনগর সফরের নিউজ মুলধারার সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ কাভারেজ করেন। অথচ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখা যায়নি। সুতরাং জেলা প্রশাসকের এ মন্তব্য সমর্থনযোগ্য নয়। ‘’
অসৌজন্যমুলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের বলেন,‘‘সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ মিনিট পরে আসায় তারা আসন পাননি। ’’
আপনিও তো ৩০ মিনিট পরে এসেছেন সাংবাদিকদের-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘‘ আমি জানতাম অনুষ্ঠান সাড়ে বারোটায়, তথ্য অফিসার আমাকে সেভাবেই জানিয়েছে। ‘’ তবে ব্রিফিং থেকে চলে আসা সাংবাদিকরা সরকার বিরোধী লোক-এমন কথা বলেননি বলে জানান জেলা প্রশাসক।