ফিচার

গাজীপুরে ৫ খুন: পদ্মা সেতু থেকে লাফ দি‌য়ে অভিযুক্তের আত্মহত্যা

By daily satkhira

May 15, 2026

অনলাইন ডেস্ক : গাজীপুরের কাপা‌সিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালক হত্যায় অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা সেতু থেকে লাফ দি‌য়ে আত্মহত‌্যা করেছে ব‌লে ধারণা পুলিশের । মে‌হেরপুর থে‌কে ফোরকা‌নের ব‌্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে ।

বৃহস্পতিবার বি‌কা‌লে গাজীপুরের পু‌লিশ ‍সুপার মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ‌্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন।

পু‌লিশ সুপার জানান, মে‌হেরপুর থে‌কে এক বাস হেলপা‌রের হাত থে‌কে ফোরকা‌নের মোবাইল উদ্ধার করা হয়। সি‌সি‌টি‌ভি ফুটেজে পদ্মা সেতুর ওপরে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় রাখ‌তে দেখা গে‌ছে এবং সেতুর রে‌লিং থে‌কে লাফ দি‌য়ে‌ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামের ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে; বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়েছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছিল।

ঘটনার দিন মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে থাকতে দেখেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরেই ফোরকান এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।