হারিচুক্তিতে লীজ নিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল করতে না পেরে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মানববন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী হাসান শাহরিয়া রিপন।
লিখিত বক্তব্যে আশাশুনির লাঙ্গলদাড়িয়া গ্রামের মৃত ছহিল উদ্দিন মল্লিকের পুত্র হাসান শাহরিয়া রিপন বলেন, আমি বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় এস এ খতিয়ান ভূক্ত মল্লিকদের প্রায় ৩২ একর জমি এস এ খতিয়ানে ভূলবশতঃ ১/ক খতিয়ান ভূক্ত হয়। উক্ত সম্পত্তি থেকে ২ একর সম্পত্তি বাৎসরিক ইজারা দেওয়ার মৌখিক চুক্তিতে ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম গং। ১৪ থেকে ১৫ বছর যাবত বাৎসরিক ইজারার টাকা পরিশোধ করলেও সম্প্রতি উক্ত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চক্রান্ত শুরু করে। এর জের ধরে আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেও সম্পত্তি দখল করতে না পেরে ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মো: শহীদুল্লাহ’র নেতৃত্বে আমাদের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে একটি কথিত ভূমিহীন সেজে মানববন্ধন করেছে। সেখানে আমাকে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুজ্জামান ছট্টুর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে। আমরা এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উক্ত জমির মালিকদের মধ্যে আমি রিপন এবং উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মল্লিক আবু মুসা মাষ্টার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মল্লিক, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম সহ বিএনপি পরিবার এবং ইউনিয়নের ০৮ ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মোস্তফা নুরুজ্জামান মল্লিক, সাবেক বিডিআর সদস্য ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম মল্লিক, জামায়াত নেতা শাহাজাহান মল্লিক, হাসানুজ্জামান টিটু মল্লিক, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান সাদ্দাম মল্লিকসহ বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী নেতাদের পৈত্রিক জমি। উক্ত জমি এস এ খতিয়ানে ভূলবশতঃ খাস খতিয়ান ভূক্ত হলে উক্ত ভূল সংশোধনের জন্য আমরা সহকারী জজকোর্টে কেস করি এবং বিজ্ঞ আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার জেলা জজ আদালতে আপিল করে। জেলা জজ আদালতের রায় ও আদেশ আমাদের পক্ষে এবং বর্তমানে সরকার পক্ষ হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোটের কেস চলাকালে কোন জমি ডিসিআর দিতে পারেনা। সে কারনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আউয়াল ছোট, শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি রফিকুজ্জামান ছোট্টু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ, যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সামনে উপজেলা এসি ল্যান্ড রাশেদ সাহেব ডিসিআর প্রদানে মৌখিকভাবে ভুল স্বীকার করে বলেন ০৫ আগস্টের পরে অনেকে ভুল ইনফরমেশন দিয়ে এরকমটা করে নিয়েছে। এরপরেও ওরা ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছিলো। বিগত ২০১১/১২ সালের দিকে উক্ত জমির মালিক লাঙ্গলদাড়ীয়া গ্রামের মল্লিকেরা আশাশুনি সদরের বাসিন্দা রাজু আহমেদ পিয়ালকে মাছ চাষের উদ্দেশ্যে হারি দেয়। ঐ পিয়ালের নিকট থেকে বর্তমানে ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম গংরা সেখান থেকে মৌখিকভাবে হারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে করে আসছিল। সম্প্রতি তারা উক্ত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করলে আমরা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জানালে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান করার জন্য ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুজ্জামান ছট্টু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহকে দায়িত্ব প্রদান করে। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। অথচ উল্লেখিত অবৈধ দখলদাররা তাদের জড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জমির মালিকদের ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ করেছেন তিনি। ##