ফিচার

ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কর্তনের প্রতিবাদ করে পুত্রসহ চেয়ারম্যান চাঁদাবাজি মামলার আসামী: উপজেলা জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

By daily satkhira

May 26, 2026

ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কর্তনের প্রতিবাদ করে পুত্রসহ চেয়ারম্যান চাঁদাবাজি মামলার আসামী: উপজেলা জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কর্তনের প্রতিবাদ করে পুত্রসহ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াত। ২৫ মে ২০২৬ শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মহসিন আলম স্বাক্ষরিত একপত্রে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রতিবাদ পত্রে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম এবং তাঁর পুত্রসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও হামলার নামে মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, শ্যামনগর উপজেলা। ২৫ মে (সোমবার) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, শ্যামনগর উপজেলা আমীর মাওঃ আব্দুর রহমান ও উপজেলা সেক্রেটারী মাওঃ গোলাম মোস্তফা এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম এবং তাঁর পুত্রসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও হামলার মামলাকে আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রাপ্ত তথ্য, স্থানীয় জনগণের বক্তব্য এবং ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হচ্ছে যে, উক্ত মামলা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার সময় চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন- যেখানে স্থানীয় প্রশাসন, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ বিদ্যমান থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

আমরা আরও লক্ষ্য করছি, জাইকা (JICA) অর্থায়নে চলমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি ব্যবহার, ক্ষতিপূরণ ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ইজারাদার কর্তৃক অনুমোদিত চিংড়ি মহাল দখল, ভূমি ব্যবহারে অনিয়ম, পরিবেশের ক্ষতি এবং ভূমিহীন মানুষের উচ্ছেদের মতো বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম জনস্বার্থে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে এলাকাবাসীর একাংশ জানিয়েছে।

আমাদের মতে, জনগণের ন্যায্য অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পরিবেশ রক্ষার দাবিকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং প্রকৃত সমস্যার সমাধানকে বিলম্বিত করবে। একইসঙ্গে, এ ধরনের মামলা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও জনস্বার্থে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, শ্যামনগর উপজেলা শাখা মনে করে- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত থেকে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি, চলমান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ভূমি, পরিবেশ ও ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলোও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই-ঘটনার সকল দিক যাচাই-বাছাই করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। একইসঙ্গে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প যেন জনস্বার্থ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জনগণের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভ ও উদ্বেগ নিরসনে দ্রুত ন্যায়সঙ্গত সমাধানই বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি। প্রেস  বিজ্ঞপ্তি