নিজস্ব প্রতিনিধি: লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী শফিকুল ইসলাম (৪৩) ও নাহিদুল ইসলামের(২২) মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে মরদেহগুলো পৌছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। মরদেহ গুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। শোকের ছায়া নেমে আসে দুই পরিবারসহ পুরো এলাকারা জুড়ে।
নিহতদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এবং নাহিদুল ইসলামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার কাঁদাকাঠি গ্রামে।
এর আগে গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
স্বজনরা জানান, জীবিকার সন্ধানে মাত্র কয়েক মাস আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ও নাহিদ ইসলাম। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে নিরলস পরিশ্রম করলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্মমতায় প্রাণ হারাতে হয়েছে তাদের।
নিহদের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আসা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের খুলনার ভারপ্রাপ্ত সরকারি পরিচালক খালেদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে নিহত শফিকুল ইসলাম ও নাহিদ ইসলামের পরিবারের সদস্যদের হাতে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এদিকে, দুই প্রবাসীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো তাদের একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। স্বজনদের কান্না আর শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এদিকে কফিন দেখেই ডুকরে কেদে ওঠেন নিহত শফিকুলের স্ত্রী রুমা খাতুন (৩৭)। পরিবারের একমাত্র ভরসা স্বামী কে হারিয়ে দুই কন্যা সন্তানকে কিভাবে চলবে সংসার, কেমন করে কাটবে দিন তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী। বার বার বিলাপ করে বলছেন স্বামী হারা স্ত্রী যে অসহায় অভিভাবকহীন। সেটি বোঝানো যাবে না।
নিহদের নিজ বাড়িতে স্থানীয়ভাবে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।