নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহরে শরিফুল ইসলাম নামের এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে মাথা ও ডান হাতের আঙ্গুলে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত শরিফুল বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তার মাথায় ৭টি সেলাই এবং ডান হাতের একটি আঙ্গুলের নখ তুলে নেয়ায় সেখানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত শরিফুলের বাবা ফজলুর রহমান বাদী হয়ে শনিবার দুপুরে সন্ত্রাসী হাবিব দাই ও ইউনুছ দাইসহ তিন জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকালে ধুলিহর বাজারের সাহেব বাড়ীর মোড়ে এ মারপিটের ঘটনাটি ঘটে।
এ মামলার আসামীরা হলো, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর বেড় বাড়ী এলাকার কাশেম দাইয়ের ছেলে হাবিব দাই (৪৪) ও ইউনুছ দাই (৪৭) এবং হাবিব দাইয়ের কন্যা মোছাঃ হাবিবা (১৯)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম (২৭) এর সাথে ১নং আসামী হাবিবের সাথে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে কথাকাটাকাটি হয়। এর ফলে আসামীরা শরিফুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও মারাত্বক জখমের পরিকল্পনা করতে থাকে। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৪টার দিকে শরিফুল পাশ^বর্তী ধুলিহর বাজারের সাহেব বাড়ীর মোড়ে কালা দর্জির দোকানের সামনে পৌছালে আসামীরা খুন জখমের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পথরোধ করে এলোপাড়াড়ি ভাবে মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে ১নং আসামী হাবিব তার হাতে থাকা ইট দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে শরিফুলের মাথায় আঘাত করলে অত্র আঘাত লক্ষভ্রষ্ট হয়ে তার কাধে লাগে। সাথে সাথেই সে আবারো হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতের ইট দ্বারা শরিফুলের মাথা লক্ষ করো আঘাত করলে অত্র আঘাত তার মাথার মাঝ বরাবর বাম পাশের্^ লেগে মারাত্বক কাটা জখম হয় (যা ৭টি সেলাই যুক্ত) এত তার শরীর রক্তে ভিজে যায় এবং মাটিতে পড়ে যায়। এসময় ২নং আসামী ইউনুছ দাত দিয়ে শরিফুলের ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুলের অগ্রভাগে কামড় দিয়ে নখসহ প্রায় ১ ইঞ্চি পরিমান বিচ্ছিন্ন করে মারাত্বক জখম করে। এসময় ১নং আসামী হাবিব তার হাতে থাকা ইট দিয়ে শরিফুলের বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুল আঘাত করে মারাত্বক জখম করে। যার ফলে তার ওই আঙ্গুলের নখ নষ্ট হয়। ৩নং আসামী হাবিবা এসময় ইট দিয়ে শরিফুলের কোমরে উপর্যুপুরী আঘাত করে মারাত্বক জখম করে। ২নং আসামী ইউনুছ এসময় গলা চেপে ধরে রাখায় শরিফুল ছটফট করতে থাকলে ধুলিহর সানা বাড়ি এলাকার (স্বাক্ষী) কামরুল ইসলাম, শামীম ও শাহিন গাজী উক্ত আসামীদের কবল হতে শরিফুলকে উদ্ধার করে। একপর্যায়ে এ মামলার বাদী ফজলু রহমান ও তার স্ত্রী সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসলে আসামীরা তাদের খুন জখমের মারাত্বক হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর তারা তাদের সন্তানকে গুরুতর আহত অবস্থায় ইজিবাইক যোগে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। শরীফুল বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এজাহারে তিনি আরো উল্লেখ করেন, চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকায় থানায় এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হয়েছে। তিনি এসময় পুলিশ প্রশাসনের কাছে আসামীদের গ্রেপ্তার পূর্বক সর্বেচ্চ শাস্তির জোর দাবী জানান।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।