নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আপন কাকা গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে গ্রেপ্তার কালিগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নেপাল সরকার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের মৃত অনন্ত সরকারের ছেলে এবং নিহত সঞ্চিব কুমার সরকারের আপন কাকা।
এর আগে বুধবার সকালে নিজের মৎস্য ঘের থেকে সঞ্জিব কুমার সরকারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় সঞ্ঞ্জিবের বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সে সময় সঞ্জীবের মা মায়া রানী ম-ল তার ছেলে ও স্ত্রী প্রিয়া ম-ল স্বামী সঞ্জীব হত্যার জন্য আনন্দ সরকার, তাপস সরকার ও শাওনকে দায়ী করেন।
এঘটনায় নিহতের পিতা গোপাল সরকার বুধবার রাতে বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলেন, মৃত অনন্ত সরকারের পুত্র নেপাল সরকার,গঙ্গাধর সরকারের ছেলে আনন্দ সরকার, একই গ্রামের নেপাল সরকারের ছেলে তাপস সরকার ওরফে ডালিম ও আনন্দ সরকারের ছেলে শাওন সরকার। এদিকে, ঠেকরা রহিমপুর গ্রামে গেলে মাষ্টার বিজয় সরকার জানান, তাদের শরীক গোপাল সরকার ঠেকরা বিলে ২২ বিঘা মাছের ঘের করেন। তার ছেলে সঞ্জীব সরকার আট বিঘা ঘের করেন। গোপাল সরকারের ছোট ভাই পঞ্চানন সরকার ১৫ বছর আগে মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী মাধবী সরকারের কাছ থেকে তাপস সরকার ওরফে ডালিম ১২ বিঘা ও সঞ্জীব সরকার তিন বিঘা জমি লীজ নিয়ে তৃতীয় বছরের জন্য মাছ চাষ করতো। ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা লীজ বাবদ তার কাকিমা মাধবীকে পরিশোধ করেছে সঞ্জীব।
গত ৩১ মে রাতে সঞ্জীব সরকার তাপসের ঘের থেকে মাছ চুরি করেছে মর্মে অভিযোগ ওঠে। এক সপ্তাহ পর এনিয়ে গ্রামের পশুপতি সরকারের বাড়িতে শালিসি বৈঠক হলেও সঞ্জীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। এনিয়ে তাপস সরকার, আনন্দ সরকার ও শাওন সরকারের সাথে সঞ্জীবের বিরোধ চলে আসছিলো।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, সঞ্জীব সরকার হত্যার ঘটনায় তার বাবা গোপাল সরকারি বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০জনকে আসামী করে বুধবার রাতে থানায় একটি হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। রাতেই ঘঁনার সঙ্গে জড়িত থাকার পর অনন্ত সরকারের ছেলে নিহতের কাকা নেপাল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।