স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে মিসর। একই সঙ্গে তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনা করা রেফারি ও পুরো ম্যাচ অফিশিয়ালদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মিসরের কোচ হোসাম হাসানের অভিযোগ, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ডালাসভিত্তিক ভিএআর দল মিলে ম্যাচটি ‘পাতানো’ ছিল।
ম্যাচে মিসরের স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকোর একটি গোল মাঠের অনেক দূরের একটি ফাউলের কারণে বাতিল করা হয়। এরপর আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিসর দুটি পেনাল্টির দাবি জানালেও কোনোটি দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোসাম বলেন, ‘যদি তারা এতটাই চায় যে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতুক, তাহলে অন্য সবাইকে এসে এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য ডাকারই বা প্রয়োজন কী?’
এরপর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে আসে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। ফিফার কাছে তদন্তের আবেদন জানিয়ে তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা নীরব থাকতে পারি না। ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এবং এমন প্রশ্ন তুলেছে, যা ম্যাচের গতিপথে সরাসরি প্রভাব ফেলা সিদ্ধান্তগুলোর ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ’মিসরীয় ফুটবল সবসময় ফেয়ার প্লে, ক্রীড়া সততা এবং খেলাটির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে। এই নীতিতে আমাদের চাওয়া, সব দল সমান সুযোগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং সমান আচরণ পাবে। ম্যাচে যা ঘটেছে, তা আমাদের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের মধ্যে গুরুতর রেফারিং ভুল এবং দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে ব্যাপক হতাশার জন্ম দিয়েছে। স্পষ্টভাবেই ভিএআরের বেশ কিছু বড় ভুল ছিল। গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফুটেজ পর্যালোচনা না করার সিদ্ধান্তও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।’
মিসর আরও জানায়, ‘এসব ভুল এবং মিসর জাতীয় দলের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তদন্তের পর আমরা রেফারি ও পুরো ম্যাচ পরিচালনাকারী দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।’
এদিকে, হোসাম হাসানও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। ম্যাচ চলাকালে লিওনেল মেসির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর তিনি দুই হাত মাথার ওপর ক্রস করে ফিফার বর্ণবাদবিরোধী ‘এক্স’ সংকেত দেখান।
দ্য সানের দাবি, এই অঙ্গভঙ্গির কারণে হোসাম শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ে মেসি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমার সমস্যা কী?’ তবে এই কথোপকথন কিংবা সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।