নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী রাকেশ মল্লিকের বিরুদ্ধে ঘুষ না দেওয়ায় লাইসেন্স বাতিল করার ঘটনায় আজ ১৩ জুলাই সোমবার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে তদন্ত হবে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি কমিশনার আবু সাঈদ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ‘প্রধান সহকারী’র গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হয়। এর পরদিনই অর্থাৎ ২০ মে ২০২৬ তারিখে এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার রাকেশ মল্লিকের বিরুদ্ধে তৎকালীন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, দাবি কৃত ঘুষের টাকা না দেওয়ায় রাকেশ মল্লিক তাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো যেদিন (২০ মে) রাকেশের বিরুদ্ধে ঘুষের লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে, ঠিক সেই দিনই জেলা পরিষদের মাসিক সভায় তাকে ‘প্রধান সহকারী’ পদে পদোন্নতি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরদিন, ২১ মে পদোন্নতি কমিটির সভা দেখিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে (মাত্র ২ দিনের মধ্যে) রাকেশ মল্লিকের পদোন্নতির প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
একটি গুরুতর লিখিত অভিযোগ পেন্ডিং থাকা অবস্থায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে একজন বিতর্কিত কর্মচারীর পদোন্নতি ফাইল প্রস্তুত ও প্রেরণ করা হলো, তা নিয়ে খোদ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে রাকেশ মল্লিকের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সফিকুল হক নামের অপর এক উচ্চমান সহকারী। নিয়মানুযায়ী শূন্য পদে সফিকুল হকেরই পদোন্নতি পাওয়ার কথা এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির লিখিত অভিযোগও নেই। অথচ এক রহস্যময় কারণে সফিকুল হককে দীর্ঘদিন যাবৎ সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়েছে। সফিকুল হক তার বরখাস্তের বিষয়ে অনেক আগেই লিখিত জবাব দাখিল করলেও জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ তা নিষ্পত্তির কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের এই নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনে আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের দোসর, বিতর্কিত ও ঘুষখোর কর্মচারী রাকেশ মল্লিকের এই অবৈধ পদোন্নতি প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে, জেলা পরিষদের কাজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে তাকে অনতিবিলম্বে সাতক্ষীরা থেকে অন্যত্র বদলি করার এবং বঞ্চিত সিনিয়র কর্মকর্তা সফিকুল হকের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ##