ফিচার

জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনরুদ্ধারের দাবি : সাতক্ষীরায় নাগরিক পরামর্শ সভা

By daily satkhira

August 01, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী-খাল দখলমুক্তকরণ এবং পুনরুদ্ধারের দাবিতে নাগরিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে জেলা নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে উন্নয়ন সংগঠন স্বদেশ, সুশীলন, উত্তরণ, উদ্দীপ্ত মহিলা লোককেন্দ্র, বেলা, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, অর্জন ফাউন্ডেশন, হেড, বেতনা সুরক্ষা ও নদী বাঁচাও আন্দোলন, মৌমাছি, প্রাণসায়র ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটি এবং সৃজনী।

জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলালের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নুর খান বাবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, নদী ও খালের অবৈধ দখল ও ভরাট, নদীর নাব্যতা হ্রাস ও পলি জমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি, অপরিকল্পিত বাঁধ, সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণ, খাল রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণেই সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

সভায় বক্তারা জানান, এসব সমস্যা সমাধানে একটি “সাতক্ষীরা নাগরিক সুপারিশপত্র” প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের মাধ্যমে সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বর্ষা মৌসুমে প্রায় ছয় মাস জলমগ্ন থাকে। জেলার কপোতাক্ষ, বেতনা, ইছামতি, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, সোনাই ও কালিন্দীসহ অধিকাংশ নদী বর্তমানে নাব্যতা সংকটে রয়েছে। এসব নদীর সঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়র খালের সংযোগ স্থাপন করা গেলে শহরসহ জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে অনেকাংশে মুক্তি পেতে পারে।

সভায় অপরিকল্পিত নগরায়ন, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং জনসচেতনতার অভাবে পৌরসভা এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার অবনতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, এ কারণে শহরের পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি।

সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষাবিদ সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, সাংবাদিক আবুল কাশেম,সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পী, দৈনিক দক্ষিণের মশালের প্রকাশক ও সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, কবি ও লেখক কিশোরী মোহন সরকার, দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দিলু, মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহাফুজুর রহমান মকুল, মাছরাঙা টেলিভিশনের মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, বণিক বার্তার প্রতিনিধি গোলাম সরোয়ার, সংগীতশিল্পী আবু আফফান রোজবাবু, নারী নেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, বাংলাদেশ জাসদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ইদ্রিস আলী, সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান মিলটন, সুশীলনের উপ-পরিচালক জি. এম. মনিরুজ্জামান, উত্তরণের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাড. মনির উদ্দীন, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আহাসান রাজিব, সাংবাদিক ডা. সরোয়ার হোসেন, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ, নদী-বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, উদীচী সাতক্ষীরা জেলা সংসদের সভাপতি লেখক শেখ সিদ্দিকুর রহমান, হেডের পরিচালক রানা গাইন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আফজাল হোসেন এবং জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ফিংড়ী এলাকার জিল্লুর রহমান, বাকাল এলাকার মো. কামরুজ্জামান কামু, ইটাগাছা এলাকার রেশমা খাতুন ও কামালনগরের বায়জিদ হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।