ফিচার

কাজী রওশন আলমের বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ

By daily satkhira

August 12, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাল্যবিয়ে ও ভুয়া বিয়ে রেজিস্ট্রির অভিযোগসহ নানা বিতর্ক কর্মকা-ে জড়িয়ে থাকা কাজী রওশন আলমের বিরুদ্ধে এবার জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল সাতক্ষীরা জেলা রেজিষ্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমার কাছে এ লিখিত অভিযোগ পেশ করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলহাজ এসহাক সরদারের পুত্র আতিয়ার রহমান।

লিখিত অভিযোগসূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২২ সালের ২০ মার্চ আতিয়ার রহমানের ভাই মফিজুর রহমান এবং তার স্ত্রী ফতেমা নার্গিসের আইনি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১ আগস্ট ফতেমা নার্গিস সংবাদ সম্মেলন করে মফিজুরকে প্রাক্তন স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর তালাক বাতিলের দাবি তোলেন। ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি মফিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। এক পর্যায়ে ২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাতেমা নার্গিস অসৎ উপায়ে আসল ওয়ারিশগণকে বাদ দিয়ে ভুয়া উত্তরাধিকার সনদ উত্তোলন করে।

অভিযোগে বলা হয়, মফিজুরের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ভোগদখল করার উদ্দেশ্যে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ফতেমা নার্গিস দাবি করেন, ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম তালাকের মাত্র ১ মাস ৩ দিন পর বিতর্কিত কাজী রওশন আলমের নিকট থেকে পুনরায় বিবাহ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রওশন আলম দেখা করার কথা বলে টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ছেলে সোহাগ তার বাড়িতে গেলে তিনি ভাড়াটে লোকজন দিয়ে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি (মব) তৈরির চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠে। রওশন আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনার কি লাগবে সেটা বলেন। বিয়ে পড়িয়েছি কি না সেটা পরের বিষয়। সেখানে বিসিএস ক্যাডার ছিলেন। আপনি তো সাংবাদিক। তবে বিতর্কিত এই বিবাহ তিনি পড়িয়েছেন কি না সেটি নিশ্চিত করেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রওশন আলমের বিরুদ্ধে এমন শত শত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি পার পেয়ে যান। জেলায় সংঘটিত অধিকাংশ বাল্যবিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি সম্পন্ন করেন। এর আগে ভুয়া ও বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগে একাধিকবার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল ভূয়া বিবাহ সম্পাদন মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাবাসও খাটেন।

সাতক্ষীরা জজকোর্টের এক আইনজীবী সহকারী জানান, কাজী রওশন আলমের অসংখ্য ভুয়া লেজার বই সক্রিয় রয়েছে। সাতক্ষীরা জজকোর্ট প্রাঙ্গণসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে তার সিন্ডিকেট সদস্যরা এসব বই সংরক্ষণ করেন। রওশনের মূল কাজ শুধু অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে স্বাক্ষর করা। পরবর্তীতে কোনো আইনি অভিযোগ উঠলে তিনি সেই স্বাক্ষর ও সিল নিজের নয় দাবি করে এড়িয়ে যান। একেক সময় একেক ধরনের স্বাক্ষর ব্যবহার করায় আইনিভাবে তার অপরাধ প্রমাণ করা জটিল হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিবাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজিবুল ইসলাম বলেন, “কাজী রওশন আলমকে নিয়ে আমরা বেশ বিপাকে আছি। বারবার সতর্ক ও নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি নিজের ভুল সংশোধন করছেন না।”

সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্টার হাফিজা হাকিম রুমা বলেন, “তার বিরুদ্ধে শত শত মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু চরম চতুরতার আশ্রয় নেওয়ায় দাপ্তরিকভাবে প্রমাণ করা কঠিন হয়। সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া মাত্রই আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”