আমিনুর রহমান : সাতক্ষীরার কলারোয়া ভূমি অফিসে সরকারি আদেশের কপি, স্বাক্ষর এবং বাস্তব তথ্যের মধ্যে চরম অসঙ্গতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। বিবাদীকে কোনো নোটিশ না দিয়ে এবং বিবাদীর সই জাল করে একতরফা আদেশ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুস সালেহীন ও অফিস কর্মী বিজন সরকারের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, হত্যা মামলার আসামি কীভাবে এ ধরনের মামলা করল, তা নিয়েও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার ইলিশপুর মৌজার ৯৯৯ নং খতিয়ানের আংশিক রেকর্ড সংশোধনের জন্য গত অর্থবছরে (মামলা নং ৩৮/২৫-২৬) রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৫০ ধারায় একটি মিস কেস দায়ের করেন আব্দুল আলীম। এতে বিবাদী করা হয় নজরুল ইসলামকে।
ভূমি অফিসের নথিপত্র সূত্রে দাবি করা হয়, গত ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এসিল্যান্ড সিরাজুস সালেহীন বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি শেষ করে আদেশ প্রদান করেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়—রাষ্ট্রীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে রেকর্ডটি আংশিক সংশোধন করা হলো।
তবে আদেশের কপি হাতে আসার পর মূল জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিবাদী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, মামলার শুনানি থেকে শুরু করে আদেশ হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো ধরনের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়নি। নথিপত্রে তার উপস্থিতি ও সই দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভূমি অফিসের বিজন সরকার এবং এসিল্যান্ড সিরাজুস সালেহীন আমার সাথে প্রতারণা করেছেন। আমি শুনানিতে উপস্থিত ছিলাম না। তারা আমার সই জাল করে একতরফাভাবে আদেশ দিয়ে আমার জমি কেড়ে নিয়েছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুস সালেহীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, তিনি কলারোয়ায় নতুন এসেছেন। ঠিক কবে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চলতি সপ্তাহে এসেছে।”
অথচ সরেজমিনে অনুসন্ধান ও কলারোয়া ভূমি অফিসের রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, আলোচিত এই মামলার আদেশ প্রদানের আগেই তিনি কলারোয়ায় এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেছেন এবং প্রমানিত নথি অনুযায়ী মামলায় প্রদত্ত আদেশের কপিতে স্বয়ং এসিল্যান্ড সিরাজুস সালেহীনের নিজের স্বাক্ষর রয়েছে। লিখিত প্রমাণ ও আদেশের স্বাক্ষর সামনে রেখে এ বিষয়ে বার বার প্রশ্ন করা হলেও তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নথিপত্র স্পষ্ট প্রমাণ করছে, বিবাদীকে কোনো নোটিশ না দিয়েই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদেশে এসিল্যান্ডের নিজস্ব স্বাক্ষর বিদ্যমান।
এদিকে মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিতর্ক। এ মামলার বাদী আব্দুল আলীম কলারোয়ার আলোচিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আইন ও সামাজিক সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন—একজন আলোচিত হত্যা মামলার আসামি কীভাবে সরকারি দপ্তরে বাদী হয়ে অন্য একজনের জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দায়ের করে একতরফা সুবিধা পায়?
তবে বিবাদীর বাবা শাহাজুল জানান, তিনি এতে সই করেছেন।
নোটিশ না দেওয়া, জাল স্বাক্ষর ব্যবহার এবং এসিল্যান্ডের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য কলারোয়া ভূমি অফিসের সার্বিক স্বচ্ছতা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন।