ফিচার

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেল সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতির প্রাণ : বাকরুদ্ধ পরিবার

By daily satkhira

August 20, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি : চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসিমুখে ভিটেমাটিতে ফেরার কথা ছিল তাদের। অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয়জনেরা। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। ফেরার অপেক্ষায়  তাদের নিথর দেহ। 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার দুই সন্তান—মোঃ আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছাতেই এক বুক শোক আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো জেলার বাতাস।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছোট ছেলে। রেবতি সরকার একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া ভবেশ সরকারের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কোমরের তীব্র ব্যথায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন চার ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সাজু। উন্নত চিকিৎসার আশায় চার-পাঁচ দিন আগে ভারতে যান তিনি। বুধবারই চিকিৎসা শেষে প্রিয় স্বজনদের কাছে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই কলকাতার হোটেলের বিষাক্ত ধোঁয়া কেড়ে নেয় সাজুর প্রাণ। অবিবাহিত সাজু এলাকায় একজন সৎ, মিষ্টভাষী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে ভীষণ প্রিয় ছিলেন। তার অকালমৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে শহরের বাসভবন ও গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম; স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা নিহত রেবতী সরকারের বাড়িতেও নেমে এসেছে অন্ধকার। রেবতীর একটি ছেলে এবং একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার এমন ঠিক মৃত্যুতে প্রতিবেশীরাও।

জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে (রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে) মির্জা গালিব স্ট্রিটের চারতলা ওই হোটেলটিতে আগুন লাগে। সে সময় ভবনে অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশি অতিথি অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক ধারণা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের কাছেই হোটেলটি হলেও গলিপথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় অতিথিরা সময়মতো বের হতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবন বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, আগুনের শিখার চেয়েও বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়েই বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

হৃদয়বিদারক এই অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতী ছাড়াও কুষ্টিয়ার এক সংবাদকর্মী ও তার পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ বলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে উভয় পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছে। এছাড়া কোলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় সরকারের সাথে যোগাযোগ করে নিহদের মরদেহ দেশের আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।