শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলীয় উপজেলার শ্যামনগরে পিকেএসএফ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কছে আবেদন করেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
ইতিমধ্যে ইউপি ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সমন্বয়ে স্থানীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
জানা যায় সম্প্রতি কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠান । চিঠিতে বলা হয়, ইউনিয়নে পিকেএসএফের অর্থায়নে পরিচালিত একটি আর এইচ এল প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অভিযোগে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয় ছাড়াই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস)’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যে বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য অবগত বা সম্পৃক্ত না। প্রকল্প থেকে ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস)’ কার্যক্রম পরিচালনার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কৈখালী ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৪,৫ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড তুলনামূলক দরিদ্র ও প্রকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকিপূর্ণ। এ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে উল্লেখিত ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে ইউএনডিপি(UNDP) নামক একটি এনজিওর অন্য একটি মেঘা প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। যে কারনে অন্যান্য ঝুকিপূর্ণ ও দরিদ্র্য জনগোষ্ঠী যে ওয়ার্ড গুলোতে বেশি সেই এলাকাতে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা ‘সাস’ এর এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব অনেক বেশি।
চেয়ারম্যানের অভিযোগ, আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা থেকে জানানো হয়েছিলো আর এইচ এল প্রকল্পটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে এনজিও পরিচালনা করবেন। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা ধরনের অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। সে কারনে তিনি স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ১৭মে ২০২৬ তারিখে।
এদিকে এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চেয়ারম্যানের পক্ষে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. সিরাজুল ইসলাম ‘সাস’ এর সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। নোটিশে অভিযোগ করা হয় পিকেএসএফের অর্থায়নে ‘সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস)’ পরিচালিত প্রকল্পটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয় না করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নোটিশে প্রকল্পের কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গুলোর সাথে যদি কোনো এলাকার স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের সমন্বয় না থাকে তাহলে সে এলাকার তুলনা মুলক গরীব অসহায় মানুষের বড় একটা অংশ সুবিধা বঞ্চিত হয়। কারণ সে এলাকার গরীব অসহায় দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক, ব্যাবসায়ী, চাকুরিজীবী সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের তথ্য থাকে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বরদের কাছে। সে কারণে সকল এনজিও সহ সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বরদের সাথে সমন্বয় অতি জরুরী।
GCF, RHL, প্রকল্প সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) শ্যামনগর শাখার প্রকল্প সমন্বয়কারী মুন্সী মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন জানান, আমরা এখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যে নীতিমালা বা গাইড লাইনের ভিত্তিতে কোন ব্যক্তি স্বার্থ বা জনপ্রতিনিধি কারো সুপারিশ রাখা সম্ভব হয় না। পিকেএসএফ যেভাবে গাইডলাইন বা নীতিমালা দিয়ে কাজ করে থাকি।সেই ভিত্তিতে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট আমাদের এখানে কোন অনিয়ম দুর্নীতির সুযোগ নেই আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাদের সাথে লিয়াজু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।