প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরা জেলার কৃতি সন্তান তানভীর আহসান (শিহাব) উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির স্থাপন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি’তে (University of Miami, Coral Gables, Florida) পিএইচডি করার জন্য সম্পূর্ণ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। আমেরিকার এই মর্যাদাপূর্ণ ‘আর-ওয়ান’ (R1) ক্যাটাগরির টপ-টায়ার ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি তিনি আরও বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়—যেমন ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস (UNT), রোড আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, এনএমএসইউ, নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটি, ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটি, নর্থ ক্যারোলাইনা শার্লট ইউনিভার্সিটি, ইউএমবিসি, মিশিগান ডিয়ারবর্ন এবং তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী মেটু (METU) বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ফুল ফান্ড স্কলারশিপের অফার পেয়েছিলেন।
তানভীর আহসান (শিহাব) তার এই বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন ও সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন। তিনি ২০১৬ সালে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (দিন শিফট) থেকে এসএসসি এবং ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
এরপর খুলনা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (কুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি (২০১৮ ব্যাচ, যা ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সম্পন্ন হয়) এবং পরবর্তীতে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৪ ব্যাচের এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কর্মজীবনেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (R&D) বিভাগে সহকারী ব্যবস্থাপক এবং পরবর্তীতে ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (স্যামসাং ও হাইসেন্স)-এর প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির একটি সুনামধন্য ল্যাব এ পিএইচডি গবেষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল ফান্ডিংয়ের পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি কর্তৃক প্রদত্ত গবেষণা স্টাইপেন্ডের মাধ্যমে তিনি তার অ্যাকাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম সুন্দরভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বর্তমান গবেষণার বিষয়বস্তু ন্যানোম্যাটেরিয়ালস ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত ও শিল্প খাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান, তার এই অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণা ভবিষ্যতে দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে, বিশেষ করে উন্নত গবেষণায় অবদান রাখতে সক্ষম হবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার পরিবার ও শিক্ষকদের অসামান্য অবদান। সাতক্ষীরা শহরের ফুড অফিস মোড়, কাটিয়া সরকারপাড়ার একটি সাধারণ ও ধর্মভীরু পরিবারের সন্তান তানভীর। তার বাবা মো. নিজাম উদ্দীন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবং মা সাজিয়া আফরোজ একজন গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের কষ্টসাধ্য সংগ্রাম ও উৎসাহ তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এছাড়া তার বোন ডা. আনিকা আনজুম ও দুলাভাই ডা. তৈবুর রহমানের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তানভীর তার জীবনের এই সাফল্যে অত্যন্ত বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা ও সাধুবাদ জানান কুয়েটসহ তার জীবনের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দিকনির্দেশনা ছাড়া এই পথচলা সম্ভব হতো না। পরিশেষে, তিনি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন যেন তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার গবেষণা সম্পন্ন করে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করতে পারেন।