কে এম রেজাউল করিম দেবহাটা : সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া থেকে গাজীরহাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান থাকলেও ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে ছোট-বড় খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতা। এতে সড়কটি অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুলিয়া থেকে গাজীরহাট পর্যন্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে সড়কের উন্নয়নকাজ চললেও কাজের গতি খুবই ধীর। ফলে নির্মাণাধীন সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বৃষ্টির সময় সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে গর্ত ও খানাখন্দ ঢেকে যায়। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। সড়কের বেহাল ও পিচ্ছিল অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী বলছেন, সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন—দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবার বুঝি শেষ হবে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে সেই আশাও এখন অনেকটা হতাশায় পরিণত হয়েছে। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে এবং কবে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার কাজ হচ্ছে—এটা ভালো কথা। কিন্তু এত ধীরগতিতে কাজ হলে সাধারণ মানুষকে আর কতদিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে?” দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, কুলিয়া-গাজীরহাট সড়কটি এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। তাই কাজের ধীরগতি অব্যাহত থাকলে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, নির্মাণকাজের মান ঠিক রেখে দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি যাতে সড়কে জমে না থাকে, সে জন্য কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।
দেবহাটাবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন—কুলিয়া থেকে গাজীরহাট সড়কের এই ভোগান্তি থেকে তারা কবে মুক্তি পাবেন? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কাজের গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবেন, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে এবং নিরাপদে চলাচল করতে পারেন সাধারণ মানুষ।