ফিচার

আদালতে মামলা করার ৭ মাস পর সাতক্ষীরার ফিংড়িতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

By daily satkhira

September 13, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়িতে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা করার প্রায় সাত মাস পর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী স্বামীর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

আদালতে দায়ের করা মামলা ও থানায় করা জিডি সূত্রে জানা যায়, ফিংড়ি ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের আবুল কাশেমের কন্যা রোজিনা খাতুনের সঙ্গে ফয়জুল্লাপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল গাজীর ছেলে আব্দুস সাত্তারের ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ২০২৫ সালের ৫ মার্চ বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় ১ লাখ টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর সংসার চলাকালে বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে স্বামী আব্দুস সাত্তার স্ত্রীর কাছে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করেন এবং যৌতুকের টাকা না পেয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন রোজিনা খাতুন।

স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রোজিনা খাতুন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।

পরে রোজিনা খাতুন স্বামীর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর পাঃ-৯৬/২৬।

মামলার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর আব্দুস সাত্তার কৌশলে স্ত্রীর বাবার বাড়িতে গিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে রোজিনা খাতুন রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আব্দুস সাত্তার তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে রোজিনা খাতুন গত ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর ৩৬৪।

ভুক্তভোগী রোজিনা খাতুন বলেন, স্বামীর নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকিতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তার জন্য তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।