ফিচার

টেকসই বেড়িবাঁধ ও চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

By daily satkhira

September 26, 2026

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন, দুর্বল বেড়িবাঁধ ও বেহাল যোগাযোগব্যবস্থা। বছরের পর বছর ধরে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ও ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাউলখোলা গ্রামে এখনো একটি ইটের রাস্তাও নেই। গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান ভরসা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের ওপরের কাঁচা রাস্তা। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা সরু, ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে নদীভাঙন ও দুর্বল বেড়িবাঁধ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে দুর্যোগের সময় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জানমাল, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে এবং আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থায়ী ও দৃশ্যমান উন্নয়ন এখনো হয়নি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা ব্যক্তিগত ত্রাণ বা সাময়িক সহযোগিতা চাই না। আমরা চাই এমন একটি শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ, যা দুর্যোগের সময় আমাদের রক্ষা করবে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

আরেক বাসিন্দা বলেন, একটি গ্রামের মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা অন্যতম। অথচ আমাদের গ্রামে আজও একটি ইটের রাস্তা নেই। বর্ষার সময় চলাচল কতটা কষ্টকর, সেটা এখানে না এলে বোঝা কঠিন।

স্থানীয়দের দাবি, চাউলখোলার নদীভাঙন ও যোগাযোগব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধকে টেকসইভাবে নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসবেন।

চাউলখোলাবাসীর একটাই দাবি—সাময়িক সহায়তা নয়, নদীভাঙন থেকে স্থায়ী সুরক্ষা এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ ও রাস্তা চাই।