প্রেস বিজ্ঞপ্তি : পত্রিকায় পরপর তিন দিন মনগড়া, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা সদর থানা জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মো: সুমন রহমান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার বাজার কোলকাতায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৈনিক সাতনদীতে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও লিখিত প্রতিবাদ জানান। এসময় জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হাসান শাহরিয়া রিপন, যুবদল নেতা রাকিবুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে যুবদল নেতা মো: সুমন রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সততা ও সুনামের সাথে জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতির পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে যুক্ত আছি। সম্প্রতি দৈনিক সাতনদী পত্রিকায় গত ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখে আমাকে জড়িয়ে ‘যুবদল নেতা সুমনের ১০ পিস স্বর্ণের বার ছিনতাই’ এবং ‘যুবদল নেতার কোটি টাকার ৮টি স্বর্ণের বার ছিনতাই, চাপে পড়ে ৪টি ফেরত’ শিরোনামে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকাশিত সংবাদগুলোতে দিনভেদে সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী ও কাল্পনিক তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, যার সাথে বাস্তবতার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। সংবাদে যেসব ছবি বা ভিডিও ফুটেজের কথা বলা হয়েছে, সেখানে দৃশ্যমান ব্যক্তি আমি নই। রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে এই অপপ্রচার চালিয়েছে।”
দৈনিক সাতনদীর প্রকাশক ও সম্পাদক হাবিবুর রহমানের অপসাংবাদিকতা ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে সুমন রহমান বলেন, “সম্পাদক হাবিবুর রহমান সাংবাদিকতার আড়ালে ব্লাকমেইল ও চরিত্রহনন করে থাকেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও দেবহাটা ভূমিহীন হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় জেল খাটার রেকর্ড রয়েছে। এমনকি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সাবেক এমপি রুহুল হক ও মোস্তাক আহমেদ রবির প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব জবরদখল ও প্রেস ক্লাবের তহবিল আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম করেছেন। সম্প্রতি চাঁদা না পেয়ে কৃষকদল নেতাসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার সাজানো মামলায় হাবিবুর রহমান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তাঁর মিথ্যা সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে সাজা ভোগ করতে হয়, যার মধ্যে দুজন কারান্তরালে মৃত্যুবরণ করেন।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে মো: সুমন রহমান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সাথে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে ষড়যন্ত্রের শিকার না হন, সেজন্য সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ পরিবেশনের জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।