নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সাতক্ষীরায় ওয়াপদার বেড়িবাঁধ কেটে পিভিসি পাইপ স্থাপন, মৎস্য ঘেরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘেরের আইলে থাকা বিপুল পরিমাণ ফলজ গাছও কেটে সাবাড় করে দেয় দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিক বাগডাঙ্গি গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জয়নাল আবেদীন জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৮ বিঘা জমিতে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি ওই ঘেরটির ওপর নজর পড়ে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুস সবুরের। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘেরটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমাদের এলাকায় কোনো জলাবদ্ধতা নেই। তা সত্ত্বেও জলাবদ্ধতার অজুহাত তুলে জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর এবং তাঁর ভাইপো রুহুল আমিন, মোস্তাফিজুর রহমান, রুহুল কুদ্দুস, আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল হোসেনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাতের আঁধারে আমার ঘেরে হামলা ও লুটপাট চালায়। শুধু তা-ই নয়, তারা ঘেরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আইলে থাকা আম ও পেঁপেসহ নানা প্রজাতির ফলজ গাছ কেটে তছনছ করে। এতে আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।”
জানা গেছে, উক্ত স্থানে কোনো ব্যক্তি বা সাধারণ মানুষের যেন ক্ষতি না হয়, সে লক্ষ্যে কালভার্ট কিংবা পিভিসি পাইপ নির্মাণ না করার জন্য গত ৪ অক্টোবর নির্দেশ দিয়েছিলেন সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া। কিন্তু জামায়াত নেতা সবুর ও তাঁর লোকেরা সেই সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ কেটে অবৈধভাবে পিভিসি পাইপ বসিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুখ আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “রাতের আঁধারে এমন তাণ্ডব ও লুটপাট আমরা কখনো দেখিনি। আমার ভাই ঘেরের মাছগুলো রক্ষা করতে চেয়েছিল, কিন্তু সন্ত্রাসীরা সেই সুযোগ দেয়নি। এক রাতেই তাঁর সারা জীবনের সম্বল শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমার ভাই এখন নিঃস্ব। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের আকুল দাবি—যারা এই ন্যাক্কারজনক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, তবে কারা লুটপাট বা ভাঙচুর করেছে তা আমার জানা নেই। আমি সেখান থেকে চলে আসার পর পেছনে কী ঘটেছে, তা বলতে পারব না।