খুলনা

সাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগ

By daily satkhira

October 16, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি:সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমি থেকে চারটি বড় মেহগনিগাছসহ ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০টি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

কাটা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দারা। মসজিদ কমিটির অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা গাছ কাটার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তোলেন তাঁরা।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান জানান, মসজিদের জমিতে থাকা ১৪টি মেহগনিগাছের মধ্যে চারটি বড় গাছসহ ছোট-বড় বেশ কয়েকটি গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ইউএনও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এরপর সদর থানার এএসআই মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আনিছুর রহমানের ভাষ্য, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাটা গাছগুলো ঘটনাস্থলে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি মসজিদের জমি ও সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমিটি মৃত মহাতাব সরদার দান করেছিলেন। জমিটির পূর্ব পাশে আব্দুর রহিম বাবুর জমি এবং তাঁর বড় ভাই সেলিম গাজীর বাড়ি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি ও বাসিন্দার অভিযোগ, আব্দুর রহিম বাবু ও সেলিম গাজীর সংশ্লিষ্টতায় মসজিদের জমির গাছগুলো কাটা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্যে জেলা তাঁতী লীগের সম্পাদক মনিরুজ্জামান তুহিনের নামও এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাটা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। তবে গাছ কাটার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, গাছের প্রকৃত সংখ্যা এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে,মসজিদের জমির গাছ কাটার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেলিম গাজী। তিনি বলেন, “গাছ কাটার ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। গাছের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অথচ আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। যারা সত্যতা যাচাই না করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তাঁদের বিচার আমি আল্লাহর কাছে দিয়েছি।”

নিজের ব্যবসা ও কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে সেলিম গাজী বলেন, প্রায় ৪৪ বছর ধরে তাঁর হোলসেল ব্যবসা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর আরও ব্যবসা আছে। তাঁর দাবি, আল্লাহর রহমতে তিনি হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, “ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর বাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষ আমাকে চেনেন। আমি রাজনীতি কিংবা কোনো ঝামেলার মধ্যে জড়াই না। জীবনে যা করেছি, নিজের পরিশ্রমের হালাল টাকা দিয়ে করেছি। গাছ কাটার ঘটনায় আমার পরিবারকে ছোট করে কথা বলাও ঠিক নয়। ভবিষ্যতেও কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না।”

সেলিম গাজী অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু মানুষ তাঁর সম্পর্কে না জেনে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন বলেও জানান।

এলাকাবাসী বলেন, মসজিদের জমি ও সম্পদ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব সম্পদ রক্ষা করা মসজিদ কমিটি, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। জমি বা গাছ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত।

স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমি ও সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। গাছ কাটার অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।