দেবহাটা

দেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তার

By daily satkhira

October 16, 2026

দেবহাটা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) নিহত শামীমের বড় ভাই আব্দুল জলিল সানা বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর-০৯। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪৪৯, ৩২৩, ৩০২, ৩৪ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মামলার ৫ নম্বর আসামি আসাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৬), পিতা রহিম বক্স মোল্যা, সাং নাজিরের ঘের এবং ৬ নম্বর আসামি মোক্তার হোসেন খান (৫৩), পিতা মৃত মাহাতাব উদ্দীন খান, সাং সুবর্ণাবাদ।

এজাহারে যা বলা হয়েছে মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত ১২ অক্টোবর দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তাদের কথোপকথনের একটি অংশ মোবাইল ফোনে ধারণ করে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ওই কথোপকথনে ধর্মীয় অবমাননাকর বক্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর এজাহারনামীয় আসামিরা শামীমের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা ও বাড়িতে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় প্রাণভয়ে শামীম বাড়ির পেছন দিয়ে বের হয়ে যান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওইদিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে কুলিয়ার আব্দুস সবুর ডাক্তারের চেম্বারে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ১৩ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আসামিরা শামীমের অবস্থান জানতে পেরে পশ্চিম কুলিয়ায় চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে যায়। সেখানে তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অপবাদ দেওয়া হয় এবং চিকিৎসকের বাধা উপেক্ষা করে তাকে চেম্বার থেকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শামীমকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এজাহার অনুযায়ী, ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা মিছিল করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে শামীমকে বেড থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় নিয়ে যায় এবং সেখানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে শামীমের মৃত্যু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশের অভিযান মামলা দায়েরের পর দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীনের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাতভর অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মামলাটি রেকর্ডের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।