নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলায় সম্প্রতি একাধিক ধর্ষণ ও শিশু ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শহরের মিলবাজার এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দল’-এর উদ্যোগে এবং রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের (রিইব) ‘হোপ’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা নেটজ বাংলাদেশ ও জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) সহযোগিতা প্রদান করে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের সদস্য জুলফিকার রায়হান এবং সঞ্চালনা করেন শাহাজাহান সিরাজ।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খাতুন, শিক্ষক অরুণ কান্তি সানা, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা খাতুন ও নবম শ্রেণির ছাত্রী খুশি আক্তার।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর এ ধরনের যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে সব ধরনের হুমকি-ধমকি থেকে সুরক্ষা দিতে হবে। এছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা পরিচয় প্রকাশ করে তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে রিইব হোপ প্রকল্পের সমন্বয়কারী খালিদ হাসান আয়োজকদের পক্ষে চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো: ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া এবং মামলা প্রত্যাহারে হুমকি বা চাপ সৃষ্টি বন্ধ করা। ভুক্তভোগীদের পরিচয়, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ রোধ করে তাঁদের গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা। নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
মানববন্ধনে সুশীল সমাজের (সিএসও) প্রতিনিধি লাভলু, মোস্তাকিম, রাবেয়া খাতুন, জান্নাতুল, শাহাদাৎ ও শাকিবসহ মানবাধিকার সুরক্ষা দলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব দাবি বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।##