অনলাইন ডেস্ক : দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয়ের সামনে থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় তাকে।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেনের বক্তব্যেও দখলবাজির বিষয়টি আঁচ পাওয়া যায়।
তিনি জানিয়েছেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মূলত ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান পদ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা পুলিশ পদক্ষেপ নেয় বলে দাবি করা হচ্ছে।এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, শিল্প খাতের অস্থিরতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি তার কার্যক্রমে গোয়েন্দাদের কাছে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্য আছে। পোশাক খাত নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তারা কিছুদিন ধরে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের নিয়ে মিডিয়া দখল করতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ডিবিসি টেলিভিশন দখলের চেষ্টা হয়েছে।