অনলাইন ডেস্ক : নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রকৃত চালিকাশক্তি ও বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর, তোমরা প্রত্যেকে এই বাংলাদেশের মালিক।’ শুধু পুঁথিগত পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং একাধিক বিদেশি ভাষা রপ্ত করে বিশ্বজয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য শিশুদের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একমুখী পড়াশোনায় আটকে থাকলে চলবে না। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্পোর্টসে নিজেদের পারদর্শী করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আজকে যেমন এখানে খেলাধুলার ১০টি আইটেম রয়েছে এবং যার যেটা ভালো লাগে সে তাতে অংশ নিয়েছে; ঠিক একইভাবে তোমাদের জন্য একাধিক ভাষার সুযোগ তৈরি করা হবে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ৬ থেকে ৭টি বিদেশি ভাষা থাকবে, যেখান থেকে তোমাদের অন্তত একটি ভাষা বেছে নিয়ে শিখতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলার যেকোনো একটি ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করো এবং মাতৃভাষা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা রপ্ত করতে পারো—তবে পৃথিবীর কোনো শক্তি তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না। ইনশাল্লাহ, তোমরা বিশ্বের সব জাতিকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে।’
ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একদিন এমন সময় আসবে, যেদিন আমরা অন্য দেশকে দেখিয়ে বলব না যে অমুক দেশটা কত শক্তিশালী বা উন্নত। বরং সেদিন তোমরাই উদাহরণ তৈরি করবে এবং বিশ্ববাসী বলবে—বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী একটি রাষ্ট্র। সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে।’
বক্তব্যের শেষভাগে শিশুদের অনুপ্রাণিত করে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে সবাই মনে মনে এই প্রতিজ্ঞা লিখে নাও—এই দেশকে তোমাদেরই তৈরি করতে হবে, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। কারণ এই দেশ তোমাদের। স্কুল-কলেজের ক্লাসরুমের পাশাপাশি খেলার মাঠে এবং সংস্কৃতির অঙ্গনেও তোমাদের সঙ্গে বারবার দেখা হবে।’