আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য বাড়ছে : জাতিসংঘ

By Daily Satkhira

August 24, 2017

যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত বৈষম্য বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শার্লটসভিলে যে বর্ণবাদী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও এর শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের উচিত নিঃশর্তভাবে বর্ণবাদী বক্তব্যের নিন্দা করা। আর এটা করা সম্ভব না হলে আবারও এমন ঘটনা তৈরির জন্য একে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হবে।

দেশটির বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘দ্রুত সতর্কতা ও ব্যবস্থা’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপ (সিইআরডি) স্থানীয় সময় বুধবার এসব কথা বলে।

জাতিসংঘ প্যানেলের সভাপতি অ্যানাস্তাসিয়া ক্রিকলে বলেন, ‘শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী বিক্ষোভকে আমরা বিপজ্জনক হিসেবে দেখছি। কারণ, তারা বিভিন্ন স্লোগান, গানসহ নানাভাবে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ধারণা এবং জাতিগত বৈষম্য ও ঘৃণার বিস্তার ঘটাচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীরা নব্য-নাৎসি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’

‘পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই শার্লটসভিল বিরাজ করছে’ উল্লেখ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত এ ধরনের বর্ণবাদী কার্যক্রম বিস্তারের মূল কারণ তুলে ধরা এবং এ নিয়ে বিস্তর তদন্ত করা।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু অন্য জাতি-বর্ণের অধিকার অস্বীকার করলে এটা করা সম্ভব নয়। এমনকি জাতিসংঘের যে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে চুক্তি রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেটাও ভঙ্গ করছে বলে অভিযোগ করেন এই বিশ্লেষকরা।

সিইআরডি বলছে, শীর্ষ রাজনীতিকদের ব্যর্থতার কারণে দেশে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীরা বর্ণবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শার্লটসভিলের সহিংসতা সম্পর্কে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন গত মঙ্গলবার। তিনি বলেছেন, ‘আমি বলিনি, তুমি কালো তাই তোমাকে ভালোবাসি, কিংবা তুমি সাদা তাই তোমাকে ভালোবাসি।’ এভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করাকেও উদ্বিগ্নের সঙ্গে দেখছে জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞরা।

এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীরা তাদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শোভাযাত্রাসহ নানা কার্যক্রম শুরু করে। তাদের এই বর্ণবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী বিরোধীরাও রাস্তায় নামে।

এ রকম পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে একজন নিহতসহ অনেকে আহত হন। এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষকেই দোষারোপ করেন। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের আধিপত্যকে প্রতিহত না করায় ট্রাম্প সমালোচিত হতে থাকেন।