আন্তর্জাতিক

হাতকড়া পরা যুবতীর অন্তর্বাস খুলে নিয়ে ধর্ষণ করলো পুলিশের গোয়েন্দা

By Daily Satkhira

November 01, 2017

হাতকড়া পরা ১৮ বছর বয়সী এক যুবতী। তাকে তোলা হয়েছে পুলিশ ভ্যানে। এর পিছনের অংশে বসানো হয়েছে তাকে। সেই অংশে উঠে যায় নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডি মার্টিন (৩৭) ও রিচার্ড হল (৩৩)। তাদের কুনজর পড়ে ওই যুবতীর দিকে। রক্ষক হয়ে তারা ভক্ষকে পরিণত হয়।

হাতকড়া পরা ওই যুবতীকে দু’জনে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। গত মাসে এ ঘটনা ঘটে নিউ ইয়র্কের কোনি দ্বীপে। কিংস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি অফিস থেকে বলা হয়েছে এসব কথা। অভিযুক্ত দুই ধর্ষক ব্রুকলিন সাউথ নারকোটিকস ইউনিটে দায়িত্বরত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে সোমবার মোট ৫০টি অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অপহরণ সহ অনেক বিষয়। তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আদালত দুই লাখ ৫০ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি দিয়েছে মার্টিনকে। রিচার্ড হলকে জামিন দিয়েছে দেড় লাখ ডলারে। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতি জনকে ২৫ বছর করে কারাদ- দেয়া হতে পারে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বলছে, বর্তমানে বেতনহীন অবস্থায় তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিংস কাউন্টির ভারপ্রাপ্ত এটর্নি এরিক গঞ্জালেস বলেছেন, অভিযোগই বলে দেয় তারা কিভাবে জন আস্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এটা ধারণাতীত বিষয় যে, নিউ ইয়র্ক পুলিশের দু’জন গোয়েন্দা এমন গর্হিত অপরাধে জড়িত হবে। তারা তো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও তাদের সেবা দিতে শপথ নিয়েছিল। তারা ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে সেই শপথ ভঙ্গ করেছে। উচিত ছিল তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা ওই যুবতীর নিরাপত্তা ও সম্ভ্রম রক্ষা করা। বাদীপক্ষের আইনজীবী মাইকেল ডেভিড বলেছেন, ওই দু’জন অফিসারের বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধের অভিযোগ এটা। অপেক্ষাকৃত লঘু অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে জামিন দেয়ার সমালোচনা করেন তিনি।  তিনি বলেছেন, ওই ঘটনার পর থেকে ধর্ষিতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি হতাশায় ডুবে আছেন। ধর্ষিতা ওই যুবতী একটি হাই স্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। তিনি কলেজে পড়াশোনা করার জন্য পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু ধর্ষিতা হওয়ার পর তার সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। এ নিয়ে আদালতে প্রসিকিউিটরদের সঙ্গে এটর্নি জেনারেলের অফিসের কর্মকর্তারা যোগ দেন। তারা পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার ও ধর্ষণের জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১৫ই সেপ্টেম্বর একটি পুলিশ ভ্যানে ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে মার্টিন ও হল। এ সময় তারা সাদা পোশাকে ছিল। তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই পোস্ট বা অফিস ত্যাগ করেছিল। এরপর গাড়ি চালিয়ে চলে যায় ব্রুকলিনে কালভার্ট ভক্স পার্কে। ওই এলাকায় দু’জন পুরুষ আরোহী সহ ১৮ বছর বয়সী ওই যুবতী একটি প্রাইভেট কার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তাদেরকে থামায়। গাড়ি থেকে নামায় তাদেরকে। এরপর ওই যুবতীকে তার পোশাক খুলতে বাধ্য করে। এমনকি শরীরের উপরের অংশের অন্তর্বাস খুলে পুরো উদোম হতে বাধ্য করে। তিনি কিছু লুকোচ্ছেন না এটা নিশ্চিত হতে পুলিশ এটা করে। এ সময় মাদকের অভিযোগে ওই যুবতীকে গ্রেপ্তার করে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। পুরুষ দু’আরোহীকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। তারা চলে যাওয়ার পর ওই যুবতীকে তারা তুলে নেয় পুলিশ ভ্যানে। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তা মার্টিন তাকে বলে সে ও হল দু’জনেই ভীষণ ‘ক্ষুধার্ত’। যদি ওই যুবতী তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান তাহলে তাকে ছেড়ে দেবে তারা। এ সময় হাতকড়া পরা ওই যুবতীকে প্রথমে ধর্ষণ করে মার্টিন। এ সময় গাড়ি চালাতে থাকে রিচার্ড হল। আয়নায় প্রত্যক্ষ করে সেই দৃশ্য। ৪ মাইল দূরত্বে গিয়ে গাড়িটি থামানো হয় বে রিজ এলাকায়। সেখানে মার্টিন নেমে গিয়ে বসে চালকের আসনে। যুবতীর কাছে উঠে যায় রিচার্ড হল। সে ওই যুবতীর সঙ্গে অশালীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। এ সময় গাড়িটি পিছন দিকে ছুটতে থাকে। তারা এক পর্যায়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। হুমকি দেয় মুখ না খুলতে। এরপর ওই ধর্ষিতা ছুটে যান মেইমোনাইড মেডিকেল সেন্টারে। সেকানে যৌন নির্যাতন বিষয়ক কিছু পরীক্ষা করান। পরীক্ষা করানো হয় ডিএনএ। তার সঙ্গে ওই দুই গোয়েন্দার ডিএনএ মিলে গেছে। অন্যদিকে ভিডিও নজরদারিতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় রাত পৌনে নয়টার দিকে ওই যুবতীকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে পুলিশ ভ্যান থেকে। এ বিষয়ে মার্টিনের আইনজীবী মার্ক বেডরো বলেছেন, যেহেতু অভিযুক্তরা পুলিশ কর্মকর্তা তাই আমরা অভিযোগ অস্বীকার করছি। আমরা অভিযোগ অস্বীকার করছি যে, ওই যুবতীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল। বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করবে না। আসলে ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।