আশাশুনি

বড়দলে পাউবো’র বেড়িবাঁধে ফাঁটল, ঝুঁকিতে ১২ হাজার বিঘা ফসলি জমি

By Daily Satkhira

November 18, 2017

মোস্তাফিজুর রহমান : আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের মরিচ্চাপ নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বভিন্ন জায়গায় একাধিক অভ্যন্তরীন ফাঁটলের কারনে ঝুকিতে প্রায় ইউনিয়নের ১২ হাজার বিঘা জমির ফসলি খেত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার আর জেনেও না জানার ভান করে আছেন। বড়দল ইউপি’র ০২ ওয়ার্ড মেম্বর দিলীপ কুমার মন্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা গেছে পাউবো’র বেড়ি বাঁধের কিছু করুন অভ্যন্তরীন ফাঁটলের চিত্র। ইউনিয়নের বামনডাংগা এলাকার চান্দি বামনডাংগা মৌজার মধু গাজীর মৎস্য সেটের পাশে বেড়িবাঁধে বৃহৎ অভ্যন্তরীন ফাঁটল। সেখান থেকে একটু দুরে ৭/২ পোল্ডারের নড়েরাবাদে নির্মিত টিটুখালী সুঁইচ গেটের দক্ষিণ পাশে অভ্যন্তরীন ফাঁটলসহ সুঁইচ গেটের দু’ পাশের মাটিতে ফাঁটল দেখা দিয়ে বসে গিয়ে সুঁইচ গেটটির অবস্থা লাজুক হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের চম্পাখালী এলাকায় শান্তির ঘেরের পাশের বেড়িবাঁধে অভ্যন্তরীন ফাঁটলটাও বেশ বড়। নড়েরাবাদ রহমান ফকিরের মৎস্য ঘেরের পাশে, ডুমুরপোতা আফিজুরের ঘেরের পঞ্চিম পাশেসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পাউবো’র বেড়িবাঁধে দেখাগেছে একাধিক অভ্যন্তরীন ফাঁটল। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, নড়েরাবাদ, বামনডাংগা, ডুমুরপোতা, গোয়ালডাংগা, ফকরাবাদ, বুড়িয়া ও জেলপোা বিলের প্রায় ১২ হাজার বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। জানাগেছে, বোরো মৌসুমে এসব এলাকায় বোরো ধানের চাষ ও আংশিক জমিতে মিষ্টি পানির মাছের চাষ করা হয়ে থাকে। উল্লেখিত বিল গুলোতে লোনা পানির মাছ চাষ করা হয় না বললেও চলে। মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে অভ্যন্তরীন ফাঁটল গুলি আরও ভয়াবহ রুপ নিলে মারাত্বক ক্ষতির আশংখা করছে ইউনিয়নের প্রায় অধিকাংশ মানুষ। ইউপি সদস্য দিলীপ কুমার মন্ডল এ প্রতিবেদককে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের পাশে লিখিত এবং মৌখিক ভাবে বারবার ধর্না দিয়েছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিসি মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। বড় আকারের ক্ষতি হওয়ার আগে সংস্কারের পদক্ষেপ নিলে সেটা সহজ হবে অন্যথায় ইউনিয়নে ফসলি খেতের ভয়াবহ ক্ষতির আশংখা থেকেই যাবে। ইউনিয়নের একাধিক ধান চ্াষী জানান, উপজেলার একটি মাত্র ইউনিয়ন বড়দল যেখানে সবচেয়ে বেশি ধান চাষ হয়ে থাকে। এই ফাঁটলগুলি আশু সংস্কার করা হলে এলাকার চাষীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি বেড়িবাঁধের ফাঁটল গুলি তাড়াতাড়ি সংস্কার করা হোক।