রাজনীতি

যুবলীগ নেতার স্ত্রীকে যৌননির্যাতন করতেন ছাত্রলীগ নেতা !

By Daily Satkhira

February 26, 2018

দুপুরে কুষ্টিয়ার একটি রেষ্টুরেন্টে নিজের দশ বছরের পুত্রসন্তান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের প্রতারণা শিকার হওয়ার কাহিনী তুলে ধরেন এক নারী। শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার খোকসায় যুবলীগ নেতার স্ত্রীর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতার অপকর্মের কাহিনী তুলে ধরলেন ঘটনার শিকার সেই নারী। এ সময় আত্মপরিচয় নিশ্চিত এবং অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিচারও চান তিনি।

এর আগে ওই নারী বিয়ের দাবিতে দুই দিন অবস্থান করেন ওই ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই নারী বলেন, তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের মেয়ে। ২০০৭ সালে তার সঙ্গে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু উবায়দা সাফির বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে একটি মামলায় সাফি জেলে গেলে খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সায়েম হোসেন সুজন খোঁজখবর করতে তাদের বাড়িতে যান। একদিন বাড়ির লোকজনদের অনুপস্থিতিতে জোরপূর্বক যৌননির্যাতন চালান সুজন এবং ওই ঘটনা মোবাইলে ধারণ করেন।

পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেবার হুমকি ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। স্বামী জেল থেকে বের হয়ে এসে বিষয়টি টের পেয়ে তাকে তালাক দিলে তিনি ঢাকায় বাবার বাড়িতে চলে যান। সম্প্রতি সুজন অন্যত্র বিয়ে করবে বলে তাদের অন্তরঙ্গ ছবি বিভিন্ন মোবাইলে ছড়িয়ে দিলে ওই নারী বিয়ের দাবিতে ঢাকা থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি তারিখে সুজনের বাড়িতে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী বলেন, সুজন বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর তালা ভেঙ্গে তিনি সুজনের বাড়ির বারান্দায় অবস্থান শুরু করেন। দু’দিনের মাথায় পুলিশ তাকে সুজনের বাড়ি থেকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। এ সময় তিনি মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা নেয়নি। পরদিন সকালে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

পরবর্তীতে সুজনের লোকজনদের হামলা ও গণধর্ষণের হুমকিতে তিনি খোকসায় এক বান্ধবীর বাড়ীতে পালিয়ে থাকেন।

ওই নারী জানান, সুজন ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ায় পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো তাকে হুমকি ধামকি দিয়েছে।

এ বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘নিরাপত্তার সার্থে ওই নারীকে সুজনের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।’

ওই নারী কোনো ‘মামলা করেননি’ বলে দাবি করেন ওসি।