শিক্ষা

‘বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে জাবিতে অবাঞ্ছিত হবেন মতিয়া চৌধুরী’

By Daily Satkhira

April 10, 2018

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্য আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এ সময় আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবির আহ্বায়ক খান মুনতাসির আরমান বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বেড়ে উঠেছে। এ চেতনাকে সমুন্নত রেখেই আমাদের আন্দোলন। কিন্তু মতিয়া চৌধুরী জাতীয় সংসদে আমাদের নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক ও জাতির জন্য অপমানকর। আগামী তিন দিনের মধ্যে তিনি এ বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তাঁকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।’

গতকাল জাতীয় সংসদে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ‘এই রাজাকারের বাচ্চাদের অবশ্যই আমরা দেখে নেব’ বলে মন্তব্য করেন মতিয়া চৌধুরী।

এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গতকাল সোমবার পুলিশি হামলার প্রতিবাদে তিন দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন এবং রোববার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভাঙচুর প্রসঙ্গে সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে বাসভবনে হামলা চালিয়ে উপাচার্যের গায়ে হাত দেওয়া, ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো, এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি জঘন্য অপরাধ। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের নামে সাধারণ ছাত্রদের ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এরা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের উত্তরসূরি।’

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘মূল গাত্রদাহ মুক্তিযোদ্ধা কোটা। পৃথিবীর দেশে দেশে যারা স্বাধীনতার জন্য জীবনবাজি রাখে, তাদের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুযোগ থাকে। এদের দাবি রাজাকারের সন্তানদের জন্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা সংকুচিত করা। পরিষ্কার বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ করেছি, মুক্তিযুদ্ধ চলছে—মুক্তিযুদ্ধ চলবে এবং রাজাকারের বংশধরদের অবশ্যই আমরা দেখে নেব। তবে ছাত্রদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো রাগ নেই। কারণ ফেসবুকে যারা স্ট্যাটাস দিয়েছে এরা তো ছাত্র না, এরা মতলববাজ, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট। এদের সম্পর্কে সামান্যতম শৈথিল্য আমরা দেখতে চাই না।’