জাতীয়

সরকারকে সামাজিক চাপে রাখার কৌশলে বিএনপি

By daily satkhira

August 10, 2018

দেশের খবর: দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে সরকারকে চাপে রাখা কৌশল থেকে কিছুটা সরে এসেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, প্রথমদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিল। তখন আন্দোলনে সাধারণ মানুষেরও সমর্থন ছিল। তবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা বেড়ে যাওয়ায় আন্দোলনে কিছুটা ভাটা পড়ে। ফলে এখন সরকারকে চাপে রাখতে মাঠের আন্দোলনের চাইতে কূটনৈতিক ও সামাজিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বেশি। এর অংশ হিসেব কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং সংবাদ সম্মেলনে করে সরকারের বিভিন্ন ‘অনিয়ম ও নিপীড়নের’ চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। গত ৮ আগস্ট খালেদা জিয়ার কারাবাসের ৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে মানবন্ধন, প্রতীকী অনশন, স্মারকলিপি প্রদান, প্রতিবাদ সমাবেশসহ বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। কিন্তু গত ২ মাসে আন্দোলন কর্মসূচিতে অনীহা দেখা যায় দলটির। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই তার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। আন্দোলন অংশ হিসেবে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশ নেওয়া কর্মসূচি কিছুটা কম ছিল। কারণ নেতারা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এরপর নির্বাচনের সরকারের অনিয়মের প্রতিবাদে একদিনের কর্মসূচিও ছিল। এখন আবারও কর্মসূচি দেওয়া হবে।’ বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সরাসরি গণমানুষের কোনও আন্দোলন নয়। এটা প্রকৃতপক্ষে বিএনপির একার আন্দোলন এবং দলের নেতাকর্মীদের তা করতে হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জনগণের যে রকম সমর্থন পাওয়া গেছে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেই রকম পাওয়া যায়নি। ফলে বিএনপিকে সরকারকে চাপে রাখার কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এরমধ্যে গত ৭ আগস্টও কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বৈঠক করে খালেদা জিয়ার জামিনে সরকারের হস্তক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সামাজিকভাবে সরকারেকে চাপে রাখতে সরকার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কথা বলছেন দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা। তবে আগামী দিনে আন্দোলনের পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে দলের হাইকমান্ড। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই পাশাপাশি আন্দোলনও করা হচ্ছে। এছাড়াও সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কূটনীতিকদের বিফ্র করে থাকি। তারই অংশ হিসেবে ৭ আগস্ট বৈঠক করেছি কূটনীতিকদের সঙ্গে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, চলতি মাসে আর বড় ধরনের কোনও আন্দোলন করার পরিকল্প নেই দলের। তাই এখন কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং সংবাদ সম্মেলনে করে সরকারের বিভিন্ন অনিয়মগুলো তুলে ধরবে বিএনপি। যাতে করে সরকারকে কূটনৈতিক ও সামাজিক চাপে রাখা যায়। এদিকে, শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র।